দিল্লির প্যারামেডিকেল ছাত্রীর ৪ ধর্ষক-খুনির ফাঁসি কার্যকর, জনতার উল্লাস
https://parstoday.ir/bn/news/india-i78430-দিল্লির_প্যারামেডিকেল_ছাত্রীর_৪_ধর্ষক_খুনির_ফাঁসি_কার্যকর_জনতার_উল্লাস
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ২০১২ সালে চলন্ত বাসে প্যারামেডিকেলের ছাত্রী নির্ভয়াকে (ছদ্মনাম) ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত চারজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। দণ্ড কার্যকর হওয়া আসামিরা হলেন- অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা, পবন গুপ্ত এবং মুকেশ সিং।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
মার্চ ২০, ২০২০ ০৭:০৬ Asia/Dhaka
  • মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ৪ ধর্ষক-খুনি
    মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ৪ ধর্ষক-খুনি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ২০১২ সালে চলন্ত বাসে প্যারামেডিকেলের ছাত্রী নির্ভয়াকে (ছদ্মনাম) ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত চারজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। দণ্ড কার্যকর হওয়া আসামিরা হলেন- অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা, পবন গুপ্ত এবং মুকেশ সিং।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চরম নাটকীয়তা শেষে আজ (শুক্রবার) ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ দিল্লির তিহার কারাগারে ওই চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এরপর ৩০ মিনিট দেহ ঝুলিয়ে রাখা হয় হয় বলে কারাগারের মহাপরিচালক সন্দীপ গোয়েল জানিয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শোনার পরই তিহারের বাইরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে উপস্থিত জনতা। নির্ভয়ার মা আশা দেবী সাংবাদিকদের কাছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "অবশেষে দোষীদের ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে। এবার আমি শান্তি পাব। আমার মেয়ের আত্মাও শান্তি পাবে। নির্ভয়ার মা হিসাবে আমি গর্বিত।"

তিনি বলেন, "আমরা ভারতের মেয়েদের সুবিচার পাওয়ার জন্যে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব। তবে ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্যে আমাদের এই দীর্ঘদিনের অপেক্ষা খুব কষ্টের ছিল। একসময় এই অপেক্ষা মানসিক যন্ত্রণা হয়ে উঠেছিল আমাদের কাছে। তবে শেষপর্যন্ত আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।"

নির্ভয়ার মা আশা দেবী

তবে, নির্ভয়াকাণ্ডের অপরাধীদের ফাঁসি আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে গতকাল (বৃহস্পতিবার) গভীর রাত পর্যন্তও চলে নানা জল্পনা। ফাঁসির নির্দিষ্ট সময়ের মাত্র চার ঘণ্টা আগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন নির্ভয়ার খুনিদের আইনজীবী। ভারতের প্রেসিডেন্ট আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আবেদন খারিজ করে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন তা চ্যালেঞ্জ করে সর্বোচ্চ আদালতে নতুন একটি আবেদন করেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটায় সর্বোচ্চ আদালতে এ মামলার শুনানি হবে বলে প্রাথমিকভাবে স্থির হয়। রাত ২টা ২০ মিনিট নাগাদ সর্বোচ্চ আদালত চত্বরে পৌঁছান নির্ভয়ার অভিভাবকরা। যদিও তাঁদের আদালতের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে নিম্ন আদালতে ফাঁসির সাজা স্থগিত রাখার আবেদন খারিজ হওয়ার পর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় নির্ভয়াকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত চার জনের মধ্যে তিন জন। শুনানির জন্য সেটি গ্রহণ করে আদালত। সে অনুযায়ী, রাতে তাদের আবেদনের জরুরি শুনানিতে সব বিচার বিবেচনা করে আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি মোহনের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ।

আবেদনকারীদের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে ক্ষুব্ধ বিচারপতি বলেন, ‘এ আবেদন অন্তঃসারশূন্য। আপনি এটি দাখিলের আগে অনুমতি নিয়েছেন?’

আসামীদের আইনজীবী এর জবাবে বিচারপতিকে জানান, করোনাভাইরাসের কারণে তাঁর পক্ষে নথির ফটোকপি করা সম্ভব হয়নি। প্রত্যুত্তরে বিচারপতি বলেন, ‘আদালত কীভাবে তাহলে খোলা আছে। আপনি আজ তিনটি কোর্টে উপস্থিত ছিলেন। ফলে আপনি একথা কখনই বলতে পারেন না, ফটোকপি করার মতো সুযোগ-সুবিধা ছিল না। আপনার বক্তব্য শোনার জন্য রাত ১০টায় আমরা এখানে উপস্থিত আছি।’ এর পরই আবেদন খারিজ করে ফাঁসি বহাল রাখার রায় দেন।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে দিল্লির ২৩ বছর বয়সী প্যারামেডিকেল ছাত্রী নির্ভয়াকে নির্মমভাবে গণধর্ষণ করে রাজপথে ছুঁড়ে ফেলে দেয় ৬ দুষ্কৃতি। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জনের মধ্যে একজন নাবালক বলে সংশোধনাগার থেকে ৩ বছর পরে ছাড়া পেয়ে যায়। আরেক অভিযুক্ত রাম সিং জেলের মধ্যেই আত্মহত্যা করে। বাকি ৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে দিল্লির দ্রুত বিচার আদালত। ২০১৪ সালে দিল্লি হাইকোর্ট চারজনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে। অবশেষে সব আইনি প্রতিক্রিয়া শেষে অপরাধের সাত বছর তিন মাস পর ফাঁসি হলো গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত চার জনের। #

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।