ভারতে করোনায় আক্রান্ত ৩৯৬, পশ্চিমবঙ্গে নিষেধাজ্ঞা, বিভিন্ন রাজ্যে লকডাউন
-
পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন পরিস্থিতি
ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩৯৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪ জন সুস্থ হলেও মৃতের সংখ্যা ৭ জনে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক রাজ্যে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
করোনা মোকাবিলায় দিল্লি, রাজস্থান, বিহার, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, জম্মু-কাশ্মীর, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্র প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশে ৩১ মার্চ পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের ১৬ জেলায় ৩১ মার্চ পর্যন্ত লকডাউন করা হয়েছে।
৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশজুড়ে বন্ধ থাকবে এক্সপ্রেস, মেল, লোকাল ট্রেন এবং মেট্রো রেল পরিসেবা। রেলওয়ে বোর্ডের নির্দেশে গতকাল দিবাগত (রোববার) মধ্যরাত থেকে ওই নির্দেশ কার্যকরী হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত রাজ্যকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জিম, মিউজিয়াম, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সুইমিং পুল, থিয়েটার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
সমস্ত রাজ্যের মুখ্য সচিবদের সাথে ভিডিয়ো কনফারেন্সের পরে, কেন্দ্রীয় সরকার দেশের এমন ৭৫টি জেলাকে লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেখানে করোনার ভাইরাসের ঘটনা ঘটেছে। সবমিলিয়ে দেশের প্রায় ৮০টি শহর লকডাউন অবস্থায় রয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় এই লকডাউন ৩১ মার্চ পর্যন্ত চলবে এবং কয়েকটি জেলায় আগামী ২/৩ দিন লকডাউন করার পরে পর্যালোচনা করা হবে এবং তারপরে ভবিষ্যতের কৌশল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজ (সোমবার) বিকেল ৫টা থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা, হাওড়াসহ রাজ্যের বিভিন্ন সদরশহর এবং কিছু গ্রামীণ এলাকার একটা বড় অংশে অত্যাবশ্যকীয় নির্দিষ্ট পরিসেবা ছাড়া সমস্ত কাজকর্ম আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত কার্যত এই লকডাউন পরিস্থিতি চলবে। বাস, অটো, ট্যাক্সির মতো গণপরিবহণের পাশাপাশি অফিস, দোকান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, কারখানা, গুদাম প্রভৃতি বন্ধ থাকবে।
রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব বিবেক কুমারের জারি করা নির্দেশিকায় অবশ্য ‘লকডাউন’ শব্দ ব্যবহার না করে এইসব ব্যবস্থা গ্রহণকে ‘কমপ্লিট সেফটি রেস্ট্রিকশন’ বা ‘সার্বিক সুরক্ষা বিধিনিষেধ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কলকাতা পুরসভা ও হাওড়া, নদীয়া, পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর জেলার পুরো এলাকায় বিধিনিষেধ থাকবে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সব পুরসভা এলাকা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার একটা বড় অংশকে বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পরিবহণ দপ্তর বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নেই, এমন কোনও ট্রাক, ট্রেলার রাজ্যে ঢুকতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে।#