মমতার চিঠিতে আশার আলো দেখছেন কেরালার বাঙালি শ্রমিকরা
https://parstoday.ir/bn/news/india-i78641-মমতার_চিঠিতে_আশার_আলো_দেখছেন_কেরালার_বাঙালি_শ্রমিকরা
ভারতে করোনাভাইরাস ঠেকাতে লকডাউন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যে চিঠি পাঠিয়েছেন তাতে আশার আলো দেখছেন কেরালায় কাজ করতে যাওয়া বাঙালি শ্রমিকরা। আজ (শনিবার) কেরালায় বাঙালি শ্রমিকদের নেতা ইদ্রিস আলী মণ্ডল রেডিও তেহরানকে ওই তথ্য জানিয়েছেন।    
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ২৮, ২০২০ ১৪:২৩ Asia/Dhaka
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- ইদ্রিস আলী মণ্ডল
    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- ইদ্রিস আলী মণ্ডল

ভারতে করোনাভাইরাস ঠেকাতে লকডাউন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যে চিঠি পাঠিয়েছেন তাতে আশার আলো দেখছেন কেরালায় কাজ করতে যাওয়া বাঙালি শ্রমিকরা। আজ (শনিবার) কেরালায় বাঙালি শ্রমিকদের নেতা ইদ্রিস আলী মণ্ডল রেডিও তেহরানকে ওই তথ্য জানিয়েছেন।    

তিনি বলেন, ‘গোটা কেরালা রাজ্যে কমপক্ষে ১৯ লাখ বাঙালি শ্রমিক এখানে ভবন নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ইত্যাদির কাজ করেন। এখানে সবথেকে বেশি শ্রমিক হলেন মুর্শিদাবাদ জেলার। এরপরেই রয়েছে বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, বীরভূম মেদিনীপুর জেলার শ্রমিকরা। বর্তমানে লকডাউন কার্যকর থাকায় ওই শ্রমিকদের কোনও কাজ নেই। ফলে তারা বেতন বা মজুরী কিছুই পাচ্ছেন না। তবে এবার থেকে তারা খাবারের সুবিধা পাবেন। কিন্তু যেসব শ্রমিক কোম্পানির মাধ্যমে কাজ না করে কার্যত দিনমজুরীর কাজ করেন তারাই সমস্যায় পড়েছেন। তারা কিছু শ্রমিক একসঙ্গে কোনও ভাড়া বাড়িতে থাকেন। একে কাজ বন্ধ থাকায় উপার্জন বন্ধ, অন্যদিকে বাড়ি ভাড়ার প্রশ্ন, সব মিলিয়ে তারা সমস্যার মধ্যে আছেন। বিগতদিনে বন্যার সময় অনেক ঘরমালিক বাড়ি ভাড়া নেয়নি। এক্ষেত্রে কী হয় সেটিই দেখার।’    

তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি কেরালার মুখ্যমন্ত্রীকে বাঙালি শ্রমিকদের বিষয়ে চিঠি দেওয়ায় এখানে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাঙালি শ্রমিকদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে এবং তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামী (সোমবার) থেকে তারা স্বাভাবিকভাবে খাবার পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’        

স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিশেষ করে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত কোনও সমস্যায় আছেন কি না এই প্রশ্নের জবাবে ইদ্রিস আলী মণ্ডল জানান, ‘এপর্যন্ত কেরালায় যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে কোনও বাঙালি নেই। এখানে স্বাস্থ্য কর্মীরা বুথস্তর পর্যন্ত মাঠে নেমে বাঙালি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। এমনকি তাদের বিছানা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রকৃতপক্ষে যারা সৌদি আরব, দুবাই, ইরাক, ইরানে থাকতেন তারা ফিরে আসার পরে সেইসব পরিবারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।’ 

‘পালঘাট, মালাপূরম ও ত্রিশুর জেলায় এ পর্যন্ত তিন লাখ বাঙালি শ্রমিককে চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামীদিনে কেরালায় বাঙালি শ্রমিকদের যাতে কোনও সমস্যায় না পড়তে হয় সেজন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কেরালা সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি’ বলেও কেরালায় অবস্থানরত বাঙালি শ্রমিক নেতা ইদ্রিস আলী মণ্ডল মন্তব্য করেন।#     

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৮