করোনাভাইরাস
পরিযায়ী শ্রমিকদের জনস্রোত ঠেকাতে ভারতের সব রাজ্যের সীমান্ত সিল করার নির্দেশ
ভারতে করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা ২১। আজ (সোমবার) সকালে ‘আজতক’ টিভি চ্যানেলের ওয়েবসাইটে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১৩৯, সুস্থ ৯৮ এবং ৩০ জনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, এবিপিলাইভ ডটকমে ১ হাজার ১৩৯ জন আক্রান্ত, ৯০ জন সুস্থ এবং ২৭ জনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, করোনা ঠেকাতে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন কার্যকর রাখতে সব রাজ্যের সীমান্ত সিল করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিব রাজীব গৌবা সব রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং পুলিশের ডিজি’র সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করে এসংক্রান্ত নির্দেশ দিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে বলা হয়েছে, শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত অথবা এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে কোনোভাবেই এ সময়ে যাতায়াত করা যাবে না। সেজন্য রাজ্য ও জেলা সীমান্ত বন্ধ করে দিতে হবে। একমাত্র খাদ্যবস্তু এবং জরুরি সামগ্রী ছাড়া সমস্ত যাতায়াত বন্ধ।

গতকাল (রোববার) কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিব রাজীব গৌবা সব রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং পুলিশের ডিজির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করে কড়া হাতে ওই নির্দেশ পালনের কথা বলেছেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পূণ্যসলিলা শ্রীবাস্তব জানান, ‘সীমানা সিল করা এবং ভিন রাজ্যের শ্রমিক পৌঁছামাত্র তাকে কোয়রেন্টিন করায় সংক্রমণ রোখা যাবে। ওই শ্রমিকদের দেখভালের জন্য প্রয়োজনে স্টেট ডিজাস্টার রিলিফ ফান্ড থেকে খরচের অর্থ নেওয়া যেতে পারে। কোনও মালিক লকডাউনের সময়ে কর্মীদের বেতন কাটতে পারবেন না। নির্ধারিত সময়েই বেতন দিতে মালিকপক্ষ বাধ্য থাকবে। শ্রমিকরা যে যেখানে রয়েছেন তাদের একমাসের ভাড়া বাড়িওয়ালাকে মওকুফ করে দিতে হবে।’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিবদের কাছে লকডাউন চলাকালীন বিধিনিয়ম জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এমপি কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘লাখ লাখ পরিযায়ী শ্রমিক হেঁটে নিজেদের গ্রামে ফেরার চেষ্টা করছেন। দিনমজুরি হারিয়ে, খাদ্য এবং মাথার ছাদ খুইয়ে তারা বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছেন। এদের বাসস্থান এবং অর্থ দিয়ে সাহায্য করা প্রয়োজন।’
রাহুল গান্ধী ঘরে ফিরতে চাওয়া শ্রমিকদের সম্পর্কে বলেছেন, ওদের বাড়ি বহু দূরে। সেখানে পৌঁছতে ওদের খুবই কষ্টের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এজন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে সরাসরি ওদের ব্যাঙ্কে টাকা ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও পরের কয়েকটা মাস ওরা বেঁচে থাকতে পারে।
লকডাউন পরিস্থিতিতে কাজ হারিয়ে রাজধানী দিল্লি এবং অন্যত্র কাজ করা লাখ লাখ শ্রমিক নিজেদের রাজ্যে ফেরার জন্য পথে নেমেছেন। লকডাউনের ফলে গণপরিবহণ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় তারা পায়ে হেঁটেই শত শত কিলোমিটার অতিক্রম করতে চাচ্ছেন। কিন্তু এভাবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শ্রমিকরা পথে নামায় লকডাউনের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হওয়ায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে বিভিন্ন মহল থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরপরেই কেন্দ্রীয় সরকার ও বিভিন্ন রাজ্য সরকার ওই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৎপরতা শুরু করেছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।