বিধায়কের অস্বাভাবিক মৃত্যু: পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বরখাস্ত করার দাবি বিজেপির
-
দেবেন্দ্র নাথ রায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্র নাথ রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। বিজেপি’র জাতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাশ বিজয়বর্গীয় ওই দাবি জানান।
আজ (মঙ্গলবার) তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় বলেন, ‘বিজেপি রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছে। তাঁকে বলা হয়েছে যে, এ পর্যন্ত ওই রাজ্যে বিজেপি এমপিদের নিজ এলাকায় যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল কিন্তু এবার সেখানে বিধায়ক হত্যাও শুরু হয়েছে। এ ধরণের সরকার অব্যাহত থাকার কোনও অধিকার নেই। অবিলম্বে এই সরকারকে বরখাস্ত করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘মমতার (মুখ্যমন্ত্রী) আমলে বিজেপি নেতা-কর্মীদের উপরে যে অন্যায় হচ্ছে তার সুবিচার প্রয়োজন। বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়কে হত্যা করে তাঁকে আত্মহত্যার রূপ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য সহিংসতার রাজনীতির অবসান হওয়া প্রয়োজন। যথেষ্ট হয়েছে ‘দিদি’ (মুখ্যমন্ত্রী মমতা) আর নয়।’
গতকাল (সোমবার) উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায় পুলিশ। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সিবিআই তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে আজ (মঙ্গলবার) বিজেপি ১২ ঘণ্টার জন্য উত্তরবঙ্গ বনধের ডাক দেওয়ায় বনধে মিশ্র প্রভাব পড়েছে। সিপিএমের টিকিটে জয়ী হওয়া দেবেন্দ্রনাথ রায় গতবছর ২৮ মে দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন।
আজ বনধকে কেন্দ্র করে শীতলকুচি ব্লকের গোঁসাইরহাটে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের ১২ জন আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য শীতলকুচি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ সকাল থেকে বাজারের দোকানপাট বন্ধ থাকলেও পরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বাজারে মাইকিং করে দোকানপাট খোলার অনুরোধ করা হলে দোকানপাট খুলে যায়। শীতলকুচির সংঘর্ষে গোঁসাইরহাট ও ডাকঘড়া বাজারে বিজেপি’র দলীয় কার্যালয়সহ ১০টি সাইকেল ভাঙচুর হয়। দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজেপি’র স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি পবিত্র বর্মনের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বনধ সফল করতে দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুলিশের সামনেই সশস্ত্রভাবে তাদের আক্রমণ করে। ব্যাপক বোমাবাজি করে তাদের দলীয় কার্যালয় ভেঙে দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
যদিও তৃণমূলের শীতলকুচি বিধানসভা কমিটি সদস্য হরিনাথ বর্মন বিজেপি’র অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন। তারা শান্তিপূর্ণভাবে বাজারে মিছিল করছিলেন। এসময়ে বিজেপি সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে তাদের মিছিলে হামলা চালায় বলে হরিনাথ বাবু মন্তব্য করেন।
আজ বনধকে কেন্দ্র করে কুচবিহারের ঘুঘুমারিতে বাস পরিসেবা বন্ধ করার চেষ্টা করলে বিজেপি সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলে বিজেপি সমর্থকরা তাতে বাধা দেয়। এসময় কমপক্ষে ৩ টা বাসে ভাঙচুর হয়। মেখলিগঞ্জ ও তুফানগঞ্জে বাস পরিসেবা ব্যাহত হয়েছে। জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি তৎপরতা চলছে।
কুচবিহারের বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিক এমপি বলেন, ‘রাজ্যে যে অরাজকতা চলছে, সেজন্য মুখ্যমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।’
উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে বনধের ভালো প্রভাব পড়লেও বালুরঘাট, জলপাইগুড়ি, ধূপগুড়ি, কালিম্পংয়ে বনধের বিশেষ কোনও প্রভাব পড়েনি। রায়গঞ্জ, হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জের পরিবেশ থমথমে ছিল।
তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বিজেপি’র ডাকা বনধকে বাংলার মানুষ ব্যর্থ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।