বাংলার সরকারকে ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত বরদাশত করব না: মমতা
-
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলার সরকারকে ভেঙে দেওয়ার ষড়যন্ত্র বরদাশত করব না। কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের উদ্দেশে মমতা আজ ওই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আজ (মঙ্গলবার) ২১ জুলাই তৃণমূলের শহীদ দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে এক ভার্চুয়াল সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন: ‘শান্তিতে ক’দিন কাজ করতে দিয়েছে? কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে টাকা দেয় নি বরং টাকা কেটে নিয়েছে, বঞ্চনা করেছে, কথায় কথায় অপমান করেছে, কথায় কথায় লাঞ্ছনা করেছে।’ মমতা বলেন, ‘বারবার লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, সারাজীবন মার খেতে খেতে এই জায়গায় এসেছি। সিপিএমের আমলে মারতে মারতে আমার সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। আর বিজেপি’র রাজত্বে কথায় কথায় লাঞ্ছনা, কথায় কথায় বঞ্চনা, কথায় কথায় অসম্মান, কথায় কথায় চক্রান্ত। এজেন্সি দিয়ে অপমান, অত্যাচার, সন্ত্রাস, দাঙ্গা, চক্রান্ত। বাংলার সরকারকে ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত। বাংলার মানুষের কোমর ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত আমি বরদাশত করব না, করব না করব না। এটা পরিষ্কারভাবে বলে দিচ্ছি।’
তিনি বিজেপিকে ‘তুচ্ছ রাজনৈতিক দল’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘এই লড়াইটা লড়তে হবে। সিপিএমকে ৩৫ বছর পরে যদি লড়াই করে আপানারা হটাতে পারেন তাহলে বিজেপি একটা ‘তুচ্ছ রাজনৈতিক দল’ শুধু টাকা চুরি করে, টাকা লুট করে এবং অন্যদের চোর বলে। টাকা লুট করে ওরা কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বানিয়েছে। নির্বাচনটাকে একটা ‘ডার্টি গেম’-এ পরিণত করে দিয়েছে। নির্বাচনের সময়ে ওরা টাকা দেয়। শুধু টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করে। সব রাজ্যে রাজ্যে কোনও রাজনৈতিক দল যাতে না থাকে সেই চেষ্টা করে। বলতে পারেন টাকা দিয়ে কেন মধ্য প্রদেশে সরকার ভাঙা হবে? কেন কর্ণাটকে টাকা দিয়ে সরকার ভাঙা হবে? কেন রাজস্থানে টাকা দিয়ে সরকার ভাঙা হবে? কেন বাংলায় চক্রান্ত করে সরকার ভাঙা হবে? এভাবে চলতে পারে না। একটা রাজনৈতিক দল মানুষকে খাদ্য দাও, বস্ত্র দাও, বাসস্থান দাও। কিন্তু তা না করে মানুষকে ওরা শান্তিতে ঘুমোতে দেয় না।’
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র তৎপরতা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ‘মনে রাখবেন এখানকার এজেন্সি দিয়ে আর কয়েকজন কমরেডদের দিয়ে, সিপিএমের কিছু পুরোনো কমরেডকে হাত করে যদি মনে করেন বাংলাটা (পশ্চিমবঙ্গ) দখল করবেন তাহলে মনে রাখবেন গুজরাট (প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুজরাটের বাসিন্দা) বাংলা শাসন করবে না। বাংলাই বাংলা শাসন করবে এটা সব সময় মাথায় রাখবেন।’
ক্ষুব্ধ মমতা আজ অত্যন্ত তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলেন ‘যান গুজরাটে গিয়ে গুজরাট শাসন করুন। কে বারণ করেছে? গুজরাট কি উত্তর প্রদেশ, বিহার, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, কেরালা, উড়িষ্যা, অন্ধ্র প্রদেশ, বাংলাও শাসন করবে? তাহলে আর রাজনৈতিক দল থাকার দরকার কী? নির্বাচন কমিশনই বা থাকার দরকার কী? বিচার বিভাগ থাকার দরকার কী? ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান পলিটিক্যাল পার্টি’! প্রেসিডেন্সিয়াল শাসন করে দিন না তাহলেই হয়ে গেল! সেটাই তো আপনারা করছেন। করোনা মহামারী চলছে। কিন্তু এরমধ্যে আপনারা একটার পর একটা ‘কালা কানুন’ নিয়ে আসছেন। কত ‘কালা কানুন’ করেছেন? গায়ের জোরে একটার পরে একটা ‘কালা কানুন’ করছেন। কাউকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করছেন না।’
তিনি বলেন, ‘দেশে চাষিদের স্বাধীনতা নেই, শ্রমিকদের স্বাধীনতা নেই, সরকারি কর্মীদের স্বাধীনতা নেই, পুলিশের স্বাধীনতা নেই, এজেন্সির স্বাধীনতা নেই, সংবিধানের স্বাধীনতা নেই, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নেই, চ্যানেলগুলোতে স্বাধীনতা নেই, এমনকি বক্তব্যের প্যানেলগুলোতে স্বাধীনতা নেই, খবরের কাগজের স্বাধীনতা নেই, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছেন। ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা আন্দোলন করলে তাদেরও গ্রেফতার করে জেলে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন!’
মমতা বলেন, ‘আজকে আমি একথা বললাম, দেখবেন কাল থেকে আমার ওপরে আরও ‘অত্যাচার’ হবে! কিন্তু অত্যাচার হলেও আমি ভয় পাই না। আমি বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে জানি। চক্রান্ত করে ওরা কী করবে? মনে রাখবেন ‘মৃত বাঘের চেয়ে আহত বাঘ আরও ভয়ঙ্কর’! আমি জেল-বন্দুক-গুলি এসবে ভয় পাই না। এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছি।’
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে বিজেপি’র ‘জামানত বাজেয়াপ্ত’ করে-বাংলাকে ‘বহিরাগতরা’ চালায় না-বাংলা-ই বাংলাকে চালাবে এটা আপানাদের প্রমাণ করতে হবে।’
মমতা এদিন পশ্চিমবঙ্গে জনকল্যাণে যেসব কাজ করা হচ্ছে সেসবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিজেপিকে রুখে দিয়ে আগামী ২০২১ সালে রাজ্যে পুনরায় তৃণমূল ক্ষমতায় আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এনএম/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।