জম্মু-কাশ্মীরে একদিনে জোড়া হামলায় ৪ জওয়ানসহ নিহত ৬
জম্মু-কাশ্মীরে একদিনে অজ্ঞাত গেরিলাদের জোড়া হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৪ জওয়ান নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ২ গেরিলার মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল (সোমবার) বারামুল্লা জেলার ক্রিরি এলাকায় আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের তল্লাশি দলের উপরে আচমকা গেরিলারা এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করলে এ পর্যন্ত ৪ জওয়ান নিহত ও পাল্টা সংঘর্ষে ২ গেরিলার মৃত্যু হয়েছে। নিহত জওয়ানদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১, আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের ২ এবং পুলিশের এক বিশেষ কর্মকর্তা ‘এসপিও’ রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে আজ (মঙ্গলবার) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি কাশ্মীরের বিষয় সম্পূর্ণটাই রাজনৈতিক বিষয়। এটা বন্দুক দিয়ে সমাধান হবে না। একমাত্র উপায় হচ্ছে রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্ত কিছুর সমাধান করা। গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরকে ভেঙে কাশ্মীর, জম্মু ও লাদাখে বিভক্ত করার পরে যদি সবকিছু মিটে যেত তাহলে কাশ্মীরে এতদিন ধরে লকডাউন কেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন বলা হচ্ছে কাশ্মীরে সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছে, সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে সাধারণ মানুষ দারুণ খুশি! তাঁরা খুব উল্লসিত! তাহলে সেখানে ইন্টারনেট বন্ধ কেন? মাত্র কিছু কিছু জায়গায় টুজি সার্ভিস চালু আছে। লাখ লাখ মিলিটারি পাঠিয়ে সেখানে তাহলে কী হচ্ছে?’ কাশ্মীরের এসব ঘটনা বন্ধে যদি সরকার আন্তরিক হয় তাহলে রাজনৈতিক সংলাপের মধ্যদিয়ে সমাধান করতে হবে’ বলেও ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার মন্তব্য করেন।
সোমবার সকালে আচমকা ওই গেরিলা হামলায় সিআরপিএফের ১১৯ ব্যাটেলিয়ানের খুরশিদ খান ও শর্মা লবকুশ সুদর্শন নামে ২ জওয়ান গুরুতরভাবে আহত হন এবং পরে তাঁরা মারা যান। দুজনেই বিহার রাজ্যের জাহানাবাদ জেলার বাসিন্দা ছিলেন। একইসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের মুজাফফর আলী দার নামে এক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পরে দিনভর গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান চালায়। এদিন সন্ধ্যায় পুনরায় গুলিবর্ষণ শুরু হলে ২ জওয়ান আহত হন। এদেরমধ্যে এক জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন। বারামুল্লার ওই হামলার পরে গেরিলারা কুলগামের নেহমা এলাকায় সিআরপিএফ ক্যাম্পে গুলিবর্ষণ করে। ক্যাম্পের বাইরে এক বাঙ্কারে হামলা চালালে সিআরপিএফের এস সুকুমার নামে এক সহকারী উপ-পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের আইজি বিজয় কুমার সোমবার বলেন, ক্রিরি এলাকার চেকপোস্ট পাহারা দিচ্ছিল পুলিশ ও সিআরপিএফের যৌথ দল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাশের ঘন বাগিচা থেকে বেরিয়ে এসে আচমকা তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে তিন সন্ত্রাসী। এরফলে দুই সিআরপিএফ জওয়ান ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের এক স্পেশ্যাল অফিসার নিহত হন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/১৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।