উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপি’র কোন্দল প্রকাশ্যে, জেলা সভাপতির অপসারণ চেয়ে স্মারকলিপি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i82643-উত্তর_২৪_পরগনায়_বিজেপি’র_কোন্দল_প্রকাশ্যে_জেলা_সভাপতির_অপসারণ_চেয়ে_স্মারকলিপি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বিজেপি’র জেলা সভাপতি শঙ্কর চ্যটার্জির অপসারণ চেয়ে বনগাঁ কেন্দ্রের বিজেপি এমপি’র কাছে স্মারকলিপি দিলেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। আজ (শনিবার) ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি’র অভ্যন্তরীণ কলহ প্রকাশ্যে এসে পড়েছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
আগস্ট ২৯, ২০২০ ১৫:২৮ Asia/Dhaka

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বিজেপি’র জেলা সভাপতি শঙ্কর চ্যটার্জির অপসারণ চেয়ে বনগাঁ কেন্দ্রের বিজেপি এমপি’র কাছে স্মারকলিপি দিলেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। আজ (শনিবার) ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি’র অভ্যন্তরীণ কলহ প্রকাশ্যে এসে পড়েছে।

আজ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতাধিক কর্মী বনগাঁর এমপি শান্তনু ঠাকুরের হাতে স্মারকলিপি তুলে দিয়ে জেলা সভাপতি শঙ্কর চ্যাটার্জির অপসারণ দাবি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে এমপি শান্তনু ঠাকুর বলেন, ‘মূলত আজ বিভিন্ন জায়গার বিজেপি’র নেতা-কর্মীরা জেলা সভাপতি শঙ্কর চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছে। জেলায় ঠিকমত সাংগঠনিক কাজকর্মও হচ্ছে না। এটা গোষ্ঠী কোন্দল কি না বলা মুশকিল তবে বনগাঁ লোকসভা এলাকায় সাংগঠনিক কাজ যে কম হচ্ছে তা অনুভব করছেন সকলেই। সেজন্য বিভিন্ন জায়গার নেতা-কর্মীরা জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাঁর অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন নেতা-কর্মীরা।’ জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বেশকিছু অভিযোগ ওঠা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দলীয় বিষয়টা দলীয় স্তরে দেখলে ভালো হয়। দলীয় নেতা-কর্মীরা দলীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, এটা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কোনও বক্তব্য নেই।’

এদিন ক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা-কর্মীরা দলীয় এমপির বাসায় তাঁর কাছে অভিযোগ জানাতে এসে ‘শঙ্কর চ্যাটার্জি নিপাত যাক, মহিলারা সুরক্ষায় থাক’ বলে চাঞ্চল্যকর স্লোগান দেন।

এ ব্যাপারে বিজেপি’র সাবেক জেলা সম্পাদক বরুণেন্দু জোয়ারদার বর্তমান জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে জেলার ১১ হাজার দলীয় কর্মী দল থেকে বসে যাবেন (নিষ্ক্রিয়) বলে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ওনার বিভিন্ন ধরণের কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন মানুষকে অপদস্থ করা ইত্যাদি দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছেন। আমরা এসবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। উনি সভাপতি হয়ে আসার পরে আমরা প্রথম দেখলাম মা-বোনদের উদ্দেশ্যে প্রথম কুরুচিকর মন্তব্য করলেন, যে কুরুচিকর মন্তব্য আমার, আপনার পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকের মা-বোনের মান-সম্মানহানি হয়ে হয়েছে বলে আমরা মনে করি। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়েছি। আমরা দেখলাম তিনি বিভিন্ন সময়ে দলটাকে বিক্রি করে দিতে আরম্ভ করলেন। অর্থনৈতিকভাবে তিনি দলটাকে একটু একটু করে তৃণমূলের হাতে তুলে দিচ্ছেন। তৃণমূলের নেতার সঙ্গে বসে তিনি বৈঠক করছেন এমন ছবিও পাওয়া গেছে! কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বকে তাঁর বিরুদ্ধে অনেক তথ্য দেওয়া হয়েছে। পুরোনো কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে, অপদস্থ করা হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে তাঁর অপসারণ চাচ্ছি।’

এ প্রসঙ্গে বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক সুরজিৎ বিশ্বাস বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি’র সঙ্গে আঁতাত রেখে কোথাও চলার প্রয়োজন বোধ করে না। প্রত্যেক জায়গায় বিজেপি’র দুই/চারজন লোক যা আছে তাঁরা অন্তর্কলহে জর্জরিত।’ দলীয় জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে একজন এমপি’র কাছে অভিযোগ জানানোর কোনও অর্থ নেই। এবং এভাবে কিছু লোককে ডেকে এনে চমক সৃষ্টির মধ্যদিয়ে বিজেপি এমপি শান্তুনু ঠাকুর নয়া নাটক সৃষ্টি করছেন বলেও তৃণমূল বিধায়ক সুরজিৎ বিশ্বাস মন্তব্য করেন।#    

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৯ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।