বিজেপি কিছু লোককে তাড়িয়ে দেওয়ার ‘জুজুর ভয়’ দেখাচ্ছে : জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
https://parstoday.ir/bn/news/india-i85077-বিজেপি_কিছু_লোককে_তাড়িয়ে_দেওয়ার_জুজুর_ভয়’_দেখাচ্ছে_জ্যোতিপ্রিয়_মল্লিক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী ও উত্তর ২৪ পরগণা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছেন, ‘অসমে যাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে তাঁদের আজও বের করা যায়নি। সবাই ভিতরে রয়েছেন। তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে গেছে। শেষমেশ তাঁদেরকে ফেরত পাঠানো হবে। সেই ফরমুলা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) হেলেঞ্চায় দলীয় সভায় বক্তব্য রাখার সময়ে ওই মন্তব্য করেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ০৩, ২০২০ ১৭:৩৩ Asia/Dhaka

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী ও উত্তর ২৪ পরগণা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছেন, ‘অসমে যাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে তাঁদের আজও বের করা যায়নি। সবাই ভিতরে রয়েছেন। তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে গেছে। শেষমেশ তাঁদেরকে ফেরত পাঠানো হবে। সেই ফরমুলা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) হেলেঞ্চায় দলীয় সভায় বক্তব্য রাখার সময়ে ওই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কাউকে নতুন করে নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলায় যত লোক বাস করেন সকলেই নাগরিক। তাঁরা জন্মসূত্রে নাগরিক এবং যারা ওপার বাংলা থেকে এসেছেন তাঁরাও নাগরিক। কীসের জন্য নাগরিকত্ব নিতে যাব আমরা? বিজেপি (নাগরিকত্ব ইস্যুতে) জুজুর ভয় দেখাচ্ছে যে আমি কিছু লোককে তাড়িয়ে দেবো। যদি ক্ষমতা থাকে, সাহস থাকে, দম থাকে তোরা তাড়িয়ে দিয়ে দেখা। আমি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমার বাংলা থেকে একটা লোককে তাড়িয়ে দেখাক।’  খাদ্যমন্ত্রী আজ (বৃহস্পতিবার) হেলেঞ্চায় দলীয় সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মতুয়া ভাইরা কেউ তৃণমূলের বাইরে যায়নি, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছেন।

রাজ্যে ২০২১ সালে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়া সম্প্রদায় এবং সংখ্যালঘু মুসলিম ভোট বড় ফ্যাক্টর। সেই নিরিখে এখন থেকেই ক্ষমতাসীন তৃণমূলের পক্ষ থেকে চলছে ঘর গোছানোর কাজ।     

খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘মতুয়ারা মমতা বন্দোপাধ্যায়কে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে। মতুয়াদের যা উন্নয়ন হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে হয়েছে। শান্তনু ঠাকুরকে এমপি করার পরে বিজেপি মতুয়া সমাজকে প্রবঞ্চনা করেছে। ওঁরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেসবের কিছুই পূরণ করতে পারেননি। আমরা মতুয়া সমাজের জন্য কাজ করতে চাই। সেজন্য বিজেপি এমপি শান্তনু ঠাকুরকে আহ্বান জানাচ্ছি আমাদের প্লাটফর্মে আসতে।’

তিনি বলেন, ‘বিজেপির সঙ্গে থেকে কোনও লাভ নেই। মতুয়াধাম ঠাকুর বাড়ির কোনও উন্নয়ন বিজেপি করেনি। বিজেপি নেতারা কেবল মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছে। ঠাকুরবাড়ির উন্নয়ন যদি কেউ করে থাকেন, তিনি হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’   

খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এদিন সাফ বলেন, ‘বিজেপি হল ধান্দাবাজের দল, বিজেপি হল মিথ্যাবাদীর দল। বিজেপি হল প্রবঞ্চনাকারী দল। বিজেপি’র লোকেরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তাঁরা কোনও কাজ করে না। সীমান্ত শহর বনগাঁর কোনও উন্নয়ন হয়নি। এত ঘটা করে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে উন্নয়নের কথা বলা হলেও সেখানে উন্নয়ন কিছুই হয়নি। শূন্য। বনগাঁয় কোনও উন্নয়ন হয়নি। বিজেপি ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কথা বললেও তা করেনি। আমরা তা করব। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ করবেন। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করা হবে।’ 

আগামী ৯ ডিসেম্বর উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বনগাঁ মুহকুমার গোপালনগরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবিত জনসমাবেশ সর্বাত্মক সফল করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার খাদ্যমন্ত্রী হেলেঞ্চায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জরুরি সভা করেন। পরে তিনি গোপালনগরে মুখ্যমন্ত্রী যে মাঠে আসবেন সেই মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।  

পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।