‘মাননীয়া গ্রেটার বাংলাদেশের লক্ষ্যে লড়ছেন’ মন্তব্য দিলীপ ঘোষের, পাল্টা জবাব কুণাল ঘোষের
https://parstoday.ir/bn/news/india-i86524-মাননীয়া_গ্রেটার_বাংলাদেশের_লক্ষ্যে_লড়ছেন’_মন্তব্য_দিলীপ_ঘোষের_পাল্টা_জবাব_কুণাল_ঘোষের
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এমপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে এক বার্তায় বলেছেন, ‘মাননীয়া লড়ছেন গ্রেটার বাংলাদেশের লক্ষ্যে’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে কটাক্ষ করতে দিলীপ ঘোষের এ ধরণের মন্তব্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ২৮, ২০২১ ১৪:৩৩ Asia/Dhaka
  • ‘মাননীয়া গ্রেটার বাংলাদেশের লক্ষ্যে লড়ছেন’ মন্তব্য দিলীপ ঘোষের, পাল্টা জবাব কুণাল ঘোষের

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এমপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে এক বার্তায় বলেছেন, ‘মাননীয়া লড়ছেন গ্রেটার বাংলাদেশের লক্ষ্যে’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে কটাক্ষ করতে দিলীপ ঘোষের এ ধরণের মন্তব্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন সমাবেশে অন্যান্য স্লোগানের পাশাপাশি যে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন সে সম্পর্কে দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, ‘মাননীয়ার মুখে বাংলাদেশি স্লোগান’। ‘ইসলামিক বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’। ‘তৃণমূলের পুজোয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার’, ‘তৃণমূলের প্রচারে বাংলাদেশি অভিনেতা’ ইত্যাদি মন্তব্য করেছেন

বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।রাজ্য বিজেপি-র মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, ‘জয় বাংলা’ শেখ মুজিবুর রহমানের স্লোগান। ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ প্রথম বেতার ভাষণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ব্যবহার করেছিলেন। এখনও বাংলাদেশে এটি সমানভাবে রাজনৈতিক স্লোগান হিসাবে ব্যবহার হয়। সেই স্লোগান এখন কেন মাননীয়া ব্যবহার করছেন তা মানুষ বুঝতে পারছে।’

বিজেপির উদ্বাস্তু শাখার রাজ্য আহ্বায়ক মোহিত রায় বলেন,  ‘জয় বাংলা’ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘোষণা করা জাতীয় স্লোগান। সেটা এই রাজ্যে ব্যবহার করার লক্ষ্য ‘তোষণ রাজনীতি’। এই স্লোগানের মধ্যে  লুকিয়ে আছে পশ্চিমবঙ্গকে ভারত থেকে আলাদা করার কথা।’

রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এরআগে ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন’ বা ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে একাধিকবার রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে  পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বানাতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ  করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র ও সাবেক এমপি কুণাল ঘোষ আজ (বৃহস্পতিবার) বলেন, ‘এটা একটা কুরুচিকর পোষ্ট। আসলে  রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হলে যা হয়। দিলীপ বাবুর মাথার মধ্যে একটা দুশ্চিন্তা, হীনমন্যতা এবং একটা মানসিক অবসাদ কাজ করছে। কারণ রাজ্য বিজেপি দলটাই ‘গ্রেটার তৃণমূল’ হয়ে গেছে। সেই মানসিক অবসাদ থেকে তিনি এই ভুল জিনিষগুলোর ব্যাখ্যা শুরু করেছেন।’

তৃণমূলের মুখপাত্র ও সাবেক এমপি কুণাল ঘোষ

কুণাল ঘোষ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ একটি আলাদা রাজ্য এবং বাংলাদেশ হল আলাদা একটি দেশ। কোনও সময়ে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। ফলে সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, চেতনায় আমরা দুই বাংলা শব্দটা ব্যবহার করে থাকি। আজকে তার কোনও বাস্তবতা সেই অর্থে নেই। তাহলে তো দিলীপ বাবুকে বলতে হয়, স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ কেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ব্যবহার করে? এই অবসাদ থেকে উনি এটা বলে বসতে পারেন। আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গ ভারতবর্ষের মধ্যে সসম্মানে দাঁড়িয়ে থাকুক।’

কুণাল ঘোষ আরও বলেন, ‘অন্যদেশ থেকে এমনকি বাংলাদেশ থেকেও এ রাজ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি, বইমেলা, খেলা এতো আনাগোনা লেগেই আছে। শ্রীলঙ্কার প্লেয়ার জয়সূর্য (কোলকাতার) বেহালায় পুজো উদ্বোধনে আসেননি? অস্ট্রেলিয়ার এক বিখ্যাত ক্রিকেটার উত্তর ২৪ পরগণায় একটি কিশোরদের শিবির চালান না? বা চালাতেন না? ফলে এগুলো অবান্তর কথা। ‘বাংলা’ নিয়ে যে স্লোগানগুলো উনি (দিলীপ ঘোষ) বিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরেছেন, এটা একটা কুরুচিকর অপব্যাখ্যা। সাধারণ রাজনীতি, বা উন্নয়নের রাজনীতিতে না পেরে উঠে বিষ ছড়ানোর চেষ্টা’ বলেও তৃণমূলের মুখপাত্র ও সাবেক এমপি কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেছেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এমবিএ/২৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।