পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হাতে ধৃত নেতা-মন্ত্রীরা, রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের ব্যাপক বিক্ষোভ
https://parstoday.ir/bn/news/india-i91774-পশ্চিমবঙ্গে_কেন্দ্রীয়_তদন্ত_সংস্থার_হাতে_ধৃত_নেতা_মন্ত্রীরা_রাজ্যজুড়ে_তৃণমূলের_ব্যাপক_বিক্ষোভ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই নারদা আর্থিক দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং বিধায়ক ও সাবেক মন্ত্রী মদন মিত্র এবং সাবেক বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মে ১৭, ২০২১ ১৩:৪০ Asia/Dhaka
  • রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের ব্যাপক বিক্ষোভ
    রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের ব্যাপক বিক্ষোভ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই নারদা আর্থিক দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং বিধায়ক ও সাবেক মন্ত্রী মদন মিত্র এবং সাবেক বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

আজ (সোমবার) সিবিআইয়ের তৎপরতার বিরোধিতা করে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। কোলকাতার নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিজাম প্যালেসের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে গোলযোগ সৃষ্টি হয়। এ সময়ে ইটবৃষ্টিও হয় বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। আজ নিজাম প্যালেসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে অবস্থান করেন। পরে বিকেল পৌনে ৫ টা নাগাদ তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। 

আজ হাওড়ার ডোমজুড়ের অঙ্কুরহাটি মোড়ে জাতীয় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ সড়ক অবরোধ হয়। হুগলি জেলার কোন্নগরে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তৃণমূল কর্মীরা। এর পাশাপাশি জিটি রোড অবরোধ করা হয়। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর চৌরঙ্গী মোড়,  আসানসোল সিটি বাস স্ট্যান্ড, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরের বিভিন্ন এলাকা, মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের গির্জা মোড়, মালদহের চাঁচোলসহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। 

রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে লোকসভার কংগ্রেসের দলনেতা  অধীর রঞ্জন চৌধুরী এমপি বলেন, ‘কাউকে ধরা হবে, কাউকে ছাড়া হবে, এটা কখনও গ্রেফতারির নিয়ম হতে পারে না। সর্বোপরি, তাঁরা বাংলার রাজনীতিবিদ। অনেকেই সিনিয়র রাজনীতিবিদ। আমি তাঁদের কয়েক জনকে ভাল করে চিনি। সুব্রতবাবু আছেন, মদনদা আছেন। ফিরহাদ হাকিম, শোভন চট্টোপাধ্যায়, সবাই এঁরা বাংলার রাজনীতিক। তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টি কে দেখবে? তার ব্যবস্থা কে করবে?’ 

‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার যেন বাংলার কেউ না হয়। কাউকে ধরব, কাউকে ছাড়ব, সিবিআই এই নীতি গ্রহণ করতে পারে না’ বলেও অধীর বাবু মন্তব্য করেন। 

প্রসঙ্গত, নারদা দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত মুকুল রায় ও শুভেন্দু  অধিকারী দু’জনেই বর্তমানে বিজেপির নেতা। এরা আগে তৃণমূলে ছিলেন। শুভেন্দু সম্প্রতি বিজেপি’র পক্ষে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা মনোনীত হয়েছেন। অন্যদিকে, মুকুল রায় এ বারের ভোটে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা থেকে বিধায়ক হয়েছেন। সিবিআই ওই বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে। 

যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘বাংলার এবং বাংলার জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে আমি সকলের কাছে আইন মেনে চলার ও লকডাউন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ না ভাঙার আবেদন জানাচ্ছি। বিচার ব্যবস্তার প্রতি আমাদের চূড়ান্ত আস্থা রয়েছে এবং আইনি পথেই আমাদের লড়াই চলবে।’ 

সোমবার সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত ব্যাঙ্কশাল আদালতে নারদা দুর্নীতি মামলার ভার্চুয়াল শুনানি হয়। আদালতে ধৃতদের পক্ষে সওয়াল করেন তৃণমূল সংসদ সদস্য ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নারদা কাণ্ডে  বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায়কে কেন গ্রেফতার করা হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি ধৃত ৪ জনের জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু তার বিরোধিতা করে সিবিআই।   

তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, 'ক্ষমতা থাকলে সিবিআই আগে মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীদের বাড়ি থেকে নিয়ে আসুক। শুভেন্দু-মুকুলরা এখন  বিজেপির কোলে বসে রয়েছে, তাই তাঁরা বাদ!'

তৃণমূলের সিনিয়র নেতা অধ্যাপক সৌগত রায় এমপি বলেন,  'এটা পুরোপুরি বিজেপির প্রতিহিংসা। অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। বাংলায় হেরে গিয়ে এখন প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নেমেছে বিজেপি। তাই সিবিআইকে কাজে লাগানো হচ্ছে।'  #

পার্সটুডে/এমএএইচ/আবুসাঈদ/১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।