কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে আর্থিকভাবে বঞ্চনা করছে : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
-
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যকে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ করেছেন। তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) রাজ্য সচিবালয় নবান্নে এ সংক্রান্ত মন্তব্য করেন।
মমতা ‘ইয়াস’ দুর্যোগ পরবর্তী ত্রাণ ও অন্যান্য বিষয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা, সেচ, পূর্ত বিভাগ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগ ইত্যাদি বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে ২০ হাজার কোটি টাকার রিপোর্ট জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় যে ৩০০ কোটি টাকা দিয়েছিল সেটা হচ্ছে আমাদের টাকারই অগ্রিম। যে টাকাটা আমরা কেন্দ্র থেকে বিপর্যয় বাবদ পাই তা আমাদের রাজ্যের শেয়ারের টাকা। সেই টাকার থেকে ৩০০ কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছে। ৩০০ কোটি টাকা কেন, এক টাকাও দেওয়া হয়নি। রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে এক হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় প্রকল্প ক্ষতি হয়ে গেছে। সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে চাষের ধান, জল, পুকুর, নদীনালা, মৎস্য প্রকল্প ইত্যাদিতে সেসব জায়গায় টাকা খরচ করা হয়েছে। আমরা চাই দীঘা মাষ্টার প্ল্যান ও সুন্দরবন মাষ্টার প্ল্যান, এমনকী ঘাটাল মাষ্টার প্ল্যানের জন্য ২০১৫ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চিঠি লিখছি। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। ফরাক্কার জল চুক্তির সময়ে ৭০০ কোটি টাকা রাজ্য সরকারকে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সে টাকাও আমরা পাইনি।’
মমতা আজ কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত করোনা ভ্যাকসিন না দেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিন আমরা ঠিকমত পাচ্ছি না। প্রয়োজন হল ১৪ কোটি ভ্যাকসিন। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা মাত্র পেয়েছি ২.১২ কোটি। তাছাড়া আমরা নিজেরা কিনেছি ১৮ লাখ ভ্যাকসিন। দৈনিক আমরা ১০ লাখ লোককে ভ্যাকসিন দিতে পারি। দ্বিতীয় পর্বের ভ্যাকসিন প্রদানে আমরাই দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো জায়গায় রয়েছি। ভ্যাকসিন প্রদানে আমরা সবচেয়ে ভালো সাফল্য পেয়েছি।’
ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে টার্গেট করে মমতা বলেন, ‘অনেক রাজ্যকে বেশি দেওয়া হচ্ছে। কোনও রাজ্যকে দেওয়াই হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সবচেয়ে বেশি উত্তর প্রদেশকে দেওয়া হয়েছে। উনি উত্তর প্রদেশে বেশি দিন তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কারণ সব মানুষই একই মানুষ। কিন্তু বিজেপি রাজ্য বলে তাকে আপনি বেশি দেবেন, আর বাংলাকে আপনি সবসময়ে টাকা দেবেন না, পয়সা দেবেন না, বন্যা ত্রাণে টাকা দেবেন না, খরার ত্রাণে টাকা দেবেন না, পাওনা টাকা দেবেন না, জিএসটির (পণ্য অ পরিসেবা কর) টাকা ঠিকমত দেবেন না, ভ্যাকসিন ঠিকমত দেবেন না। এটা তো অন্যায়! সম্পূর্ণভাবে বৈষম্য চলছে! কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানকে অপব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা সৃষ্টি করে বাংলার নামে বদনাম করে বেড়াচ্ছে। (নির্বাচনে) এত হার হেরেও লজ্জা নেই! কিছুতেই হার টা মেনে নিতে পারছে না। নানারকম চক্রান্ত চলছে, কিছু নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানকেও দখল করে।’
‘যত বলব তত কথা বাড়বে। ওঁদের সম্পর্কে যত কম কথা বলা যায় তত ভালো’ বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/মো.আবুসাঈদ/ ১৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।