ত্রিপুরায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্য রাজ্য সরকারকে বরখাস্তের দাবি জানালো কংগ্রেস
-
কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও মধ্য প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং
ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস বিজেপিশাসিত ত্রিপুরায় ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার জন্য বিজেপির সহযোগী বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে (ভিএইচপি) অভিযুক্ত করেছে। একইসঙ্গে দলটি রাজ্য সরকারের বরখাস্তের দাবি জানিয়েছে। আজ (শুক্রবার) হিন্দি গণমাধ্যম ‘নবজীবন ইন্ডিয়া ডটকম’ ওই তথ্য জানিয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ত্রিপুরার উত্তরের জেলায় সাম্প্রতিক সহিংসতার বিষয়ে রিপোর্ট চাওয়ার পরে কংগ্রেস ওই বিষয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে অভিযুক্ত করেছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ত্রিপুরার মুখ্য সচিব, পুলিশ বিভাগের ডিজিপি এবং রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের সচিবকে তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র সাকেত গোখলের অভিযোগের বিষয়ে তাদের মতামত জানাতে বলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলের অভিযোগ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ উত্তর ত্রিপুরার একটি এলাকায় সম্প্রতি মিছিল করেছিল। এ সময়ে মিছিলে থাকা জনতা সংখ্যালঘু মুসলিমদের দোকানপাট ভাঙচুর করে এবং দু’টি দোকান পুড়িয়ে দেয়। দাঙ্গা-হাঙ্গামাকে মদদ দিয়ে সরকারি মেশিনারি দর্শকের মতো কাজ করেছে বলে অভিযোগ। বলা হয়, এ ধরনের ঘটনার পরে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আজ (শুক্রবার) ওই ইস্যুতে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও মধ্য প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং রাজ্য সরকারকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জেরে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী এমপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, ‘ত্রিপুরায় আমাদের মুসলিম ভাইদের উপরে নিষ্ঠুরতা হচ্ছে। যারা হিন্দুর নামে বিদ্বেষ ও সহিংসতা করে তারা হিন্দু নয়, তারা ভণ্ড। সরকার আর কতকাল অন্ধ-বধির হওয়ার ভান করে থাকবে?’
অন্যদিকে, উত্তর ত্রিপুরা জেলার পানিসাগর মহকুমার চামটিলায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের র্যালির সময়ে একটি মসজিদ ভাঙচুরের দু’দিন পরে, ত্রিপুরা পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে গুজব ও ভুয়া ছবি না ছড়ানোর জন্য স্থানীয় জনগণকে অনুরোধ করেছে। পুলিশ আরও বলেছে যে সোশ্যাল মিডিয়ায় জাল ছবি পোস্ট করা হচ্ছে, কোনও মসজিদে আগুন দেওয়া হয়নি। ত্রিপুরা পুলিশ বলেছে, গুজব ছড়াতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া আইডি ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। পানিসাগরে বিক্ষোভের সময় কোনো মসজিদ পোড়ানো হয়নি এবং মসজিদ পোড়ানো বা ক্ষতিগ্রস্তের ছবি ভুয়া বলেও পুলিশের দাবি।
ত্রিপুরা পুলিশের মহাপরিচালক ভিএস যাদব বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ত্রিপুরার শান্তিপূর্ণ সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতিকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। আমরা প্রতিটি নাগরিকের কাছে আইন-শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করার জন্য আবেদন করছি।
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রতিবাদে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সম্প্রতি ত্রিপুরায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময়ে চামটিলায় একটি মসজিদ ভাঙচুর ও দু’টি দোকানে আগুন দেওয়া হয়। এরপর সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ‘মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সমিতি’র সম্পাদক মুহাম্মাদ কবিউল ইসলাম আজ (শুক্রবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ত্রিপুরা ভারতের একটা অঙ্গরাজ্য। ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে আমাদের অধিকার দিয়েছে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের। সরকার সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে বিজেপিশাসিত ত্রিপুরা সরকারের শাসনামলে সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপরে অত্যাচার চলছে এবং সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের উসকানি দিচ্ছে। অবিলম্বে এই সরকার বরখাস্ত হওয়া উচিত বলে আমরা ‘মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সমিতি’র পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা দিগ্বিজয় সিং যে দাবি জানিয়েছেন, সেই দাবির প্রতি আমরা সহমত পোষণ করছি। ত্রিপুরা সরকারকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা উচিত। তাঁরা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেয় না। সংখ্যালঘু মুসলিমরা শতশত বছর ধরে বাস করছে। তাঁরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ব্রিটিশ সরকারকে উৎখাত করেছে। কিন্তু আজ সংখ্যালঘু মুসলিমরা বড় বিপন্ন।’
‘যারা সহিংসতা চালাচ্ছে তাদেরকে না থামিয়ে ত্রিপুরা সরকার উসকানি দিচ্ছে! আমরা তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। এবং ত্রিপুরা সরকারকে বরখাস্ত করার দাবি জানাচ্ছি’ বলেও মন্তব্য করেন ‘মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সমিতি’র উত্তর ২৪ পরগণা জেলার সম্পাদক মুহাম্মাদ কবিউল ইসলাম।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।