ওআইসি সম্মেলনে আফগানিস্তান বিষয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i101492-ওআইসি_সম্মেলনে_আফগানিস্তান_বিষয়ে_ইরানের_দৃষ্টিভঙ্গি_তুলে_ধরেছেন_পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান গতকাল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি'র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে আফগানিস্তানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ২০, ২০২১ ১৫:৩৭ Asia/Dhaka
  • ওআইসি সম্মেলনে আফগানিস্তান বিষয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান গতকাল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি'র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে আফগানিস্তানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানের সব দল, মত, ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনের মাধ্যমেই কেবল সেদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, এ ক্ষেত্রে বিলম্ব হলে আফগান জনগণের শত্রুরা সুযোগ পেয়ে যাবে এবং এতে সেদেশে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস'র বিস্তার ছাড়াও অর্থনৈতিকসহ অন্যান্য বহু সমস্যা আফগান সরকার ও জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওআইসি সম্মেলনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যা কিনা আফগানিস্তানে টেকসই শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ তিনটি বিষয় হচ্ছে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি, অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন এবং উগ্র জঙ্গিবাদ দমনে প্রতিবেশী সব দেশের সহযোগিতা। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ওআইসি বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফগানিস্তান ইস্যুতে যে তিনিটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন তা থেকে সমগ্র এ অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তেহরানের দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, আফগানিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে যত পরিবর্তনই আসুক না কেন কিংবা যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন সেদেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ও জনগণকে সহযোগিতায় ইরান কখনোই পিছ পা হয়নি। ইসলামাবাদ বৈঠকেও এ বিষয়টি উঠে এসেছে। বৈঠকে উপস্থিত আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিনিধিরা আফগান জনগণের সহায়তায় ইরানের গঠনমূলক ভূমিকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

যাইহোক, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য ও  চিকিৎসা খাত প্রায় ধ্বংসের পথে। বলা যায় দেশটি ভয়াবহ মানবিক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তালেবান দেশটির ক্ষমতায় আসার পর সেদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রায় পাঁচ লাখ আফগান শরণার্থী ইরানে প্রবেশ করেছে। তালেবান কর্তৃপক্ষের ভুল নীতি ও বাইরের কিছু শক্তির হস্তক্ষেপের কারণে শরণার্থী সংকট তৈরি হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত এ অবস্থার অবসান না ঘটবে ততদিন পর্যন্ত শরণার্থী সংকট থেকেই যাবে। বর্তমানে ইরানের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখের বেশি আফগান শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এ ছাড়া, ইরানি নাগরিক ও আফগান শরণার্থীদের মধ্যে চিকিৎসা পরিসেবার ক্ষেত্রেও ইরান কোনো বৈষম্য রাখেনি। করোনা প্রতিরোধে ইরান প্রায় সব আফগান শরণার্থীকে ভ্যাকসিনের আওতায় এনেছে।

ইরানের সংসদের পররাষ্ট্র নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনের মুখপাত্র মাহমুদ আব্বাস যাদেহ মেশকিনি ইরানের উদ্যোগে ওআইসির জরুরি বৈঠকের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, আফগানিস্তানে অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বিরাট ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন ওআইসি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যাইহোক বর্তমানে আফগানিস্তানের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। তালেবান যদি সন্ত্রাসবাদ দমন ও দেশে বিরাজমান সমস্যা সাধানে ব্যর্থ হয় তাহলে অন্য দেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তালেবানকে এটা বুঝতে হবে যে অংশগ্রহণমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল সব জাতিগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান ও অধিকার রক্ষা করা যাবে।#             

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।