ভিয়েনা বৈঠকের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে বোরেল ও আব্দুল্লাহিয়ানের টেলিফোনালাপ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ'র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা জোসেপ বোরেল ভিয়েনায় চলমান পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক আলোচার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে টেলিফোনে মতবিনিময় করেছেন।
টেলিফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তেহরান খুবই আন্তরিকতার সাথে সমঝোতায় পৌঁছার চেষ্টা করছে কিন্তু আমরা চাই জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করা হোক। এ টেলিফোনালাপে ইইউ'র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ও ভিয়েনা পরমাণু আলোচনার সমন্বয়কারী জোসেপ বোরেল বলেছেন, ভিয়েনা আলোচনা অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু সমঝোতায় পুরোপুরি ফিরে যাওয়ার জন্য সকল পক্ষকে সদিচ্ছা ও ছাড় দেয়ার মানসিকতা প্রদর্শন করতে হবে। বোরেল বলেন, ভিয়েনা সংলাপকে দ্রুত শেষ করা ও পরমাণু সমঝোতায় পুরাপুরি ফিরে যাওয়ার জন্য সকল পক্ষের সদিচ্ছা ও ছাড় দেয়ার মানসিকতা প্রয়োজন।
টেলিফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এও বলেছেন, গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছতে আমরা বদ্ধ পরিকর কিন্তু জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি হচ্ছে আমাদের রেড লাইন। তিনি বলেন, ভিয়েনা বৈঠকে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে কিন্তু এটা মোটেও পর্যাপ্ত নয়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অতীতে ঢাকঢোল পিটিয়ে পরমাণু সমঝোতা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র এ সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায়। এমনকি ইউরোপও পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী ইরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ কারণে এবার ভিয়েনা বৈঠকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে নতুন করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে তাতে ইরানের প্রতিনিধি দল দৃঢ় অবস্থান নিয়ে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ভিয়েনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার পর চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছার জন্য বর্তমানে সাময়িকভাবে আলোচনা বন্ধ রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে আগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার পর সত্যিই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলো কিনা এবং ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষিত হলো কিনা তা যাচাই বাছাই করার পরই কেবল ইরান নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবে।
বাস্তবতা হচ্ছে, পরমাণু সমঝোতা এখন পর্যন্ত ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। আমেরিকার বিদ্বেষী নীতি এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ মার্কিন সিদ্ধান্তের বাইরে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভিয়েনা বৈঠকে প্রতিপক্ষের প্রতি ইরানের অনাস্থা বেড়েছে। এ অবস্থায় ইরান এমন একটি সমঝোতা চায় যেখানে কেবল কাগজে কলমে কিংবা মুখের কথায় নয় বরং বাস্তবে ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ'র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা জোসেপ বোরেলের সঙ্গে টেলিফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান এ বিষয়টির উপরই গুরুত্বারোপ করেছেন। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।