পিজিসিসি'র ইরান বিরোধী বিবৃতি: তেহরানের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i108776-পিজিসিসি'র_ইরান_বিরোধী_বিবৃতি_তেহরানের_প্রতিক্রিয়া
পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ তুলেছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ০৩, ২০২২ ১৫:০১ Asia/Dhaka

পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ তুলেছেন।

বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তিনটি দ্বীপ দখলে রাখার জন্য ইরানের  বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ করার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পিজিসিসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাদের বিবৃতিতে সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন দান এবং সাগরে হুমকি সৃষ্টির জন্যও ইরানকে অভিযুক্ত করেন। এ ছাড়া বিবৃতিতে তারা পরমাণু আলোচনায় ইরানের উপস্থিতির আহ্বান জানানোর পাশাপাশি দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অবসান ঘটানোরও আহ্বান জানান।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পিজিসিসির বৈঠকে এমন সময় অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানানো হলো যখন ইরানের ওই তিনটি দ্বীপের ওপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানার দাবি বরং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী। ঐতিহাসিক দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় ওই তিনটি দ্বীপ ইরানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ ব্যাপারে পিজিসিসির বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিব যাদেহ বলেছেন, তাদের ওই দাবি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং তারা ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করতে পারবে না।

বিবৃতিতে তারা আরব দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইরানের কথিত হস্তক্ষেপ ও সন্ত্রাসবাদের প্রতি তেহরানের সমর্থনের যে অভিযোগ তুলেছেন তাও সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী। এমন সময় তারা ইরানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন যখন সৌদি আরব ২০১১ সালে বাহরাইনে গণআন্দোলন দমনের জন্য সেনা সমাবেশ ঘটায় এবং ২০১৫ সালে ইয়েমেনে আগ্রাসন শুরু করে এবং সেখানে তারা ব্যাপক গণহত্যা চালাচ্ছে ও সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে। কিন্তু সবকিছু জেনেও এ ব্যাপারে আরব নেতারা কোনো কথা বলছেন না। পিজিসিসির সদস্য দেশগুলো বিশেষ করে সৌদি আরব ও আমিরাতের মতো দেশগুলোর উচিত ইরানের প্রতি তাদের বিদ্বেষী নীতি পরিহার করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখা।

এদিকে, পরমাণু আলোচনা ও সমঝোতার বিষয়ে পিজিসিসির বিবৃতি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কেননা এটি আঞ্চলিক বিষয় নয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে অন্যায় নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবত রয়েছে। তা ছাড়া পিজিসিসির কোনো দেশ এ ধরণের বৈঠকে যোগ দিতে পারে না। কেননা ইরানের পরমাণু কর্মসূচী সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এটি আঞ্চলিক নয় বরং আন্তর্জাতিক বিষয়।

পিজিসিসির বিবৃতিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে অথচ সৌদি আরব হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত অস্ত্রের মজুদকারী দেশ। সৌদি আরব আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো সবচেয়ে বড় অস্ত্র গুদামে পরিণত হয়েছে। আমেরিকা ও চীনের পর সৌদি আরব অস্ত্রখাতে সবচেয়ে বেশি বাজেট বরাদ্দ দিয়ে থাকে। সৌদি আরব ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের দাবি জানিয়েছে অথচ ইরানের সামরিক নীতি হচ্ছে আত্মরক্ষামূলক। এ ছাড়া সৌদি আরব ইয়েমেনে গণহত্যা চালাচ্ছে কিন্তু ইরানের অস্ত্র কোনো দেশে আগ্রাসনের কাজে ব্যবহৃত হয় না।

ধারণা করা হচ্ছে ওমান ও কাতারের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠায় সৌদি আরব খুবই অসন্তুষ্ট। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, পিজিসিসির ইরান বিরোধী বক্তব্য থেকে বোঝা যায় প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার জন্য ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।