ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আবদুল্লাহিয়ানের ফোনালাপ
'কয়েকটি পশ্চিমা সরকার ইরানের তরুণ ও নারীদের উস্কানি দিচ্ছে'
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান মানবাধিকার প্রসঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বৈত নীতির পাশাপাশি তার দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাশ্চাত্যের হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইরানে সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ উস্কে দিচ্ছে।
তিনি শুক্রবার ডাচ উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওপকে হোয়েকস্ট্রার সঙ্গে এক টেলিফোনালাপে এ মন্তব্য করেন। গত সেপ্টেম্বরে ইরানে হিজাব আইন অমান্য করার দায়ে আটক একজন নারীর পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া নৈরাজ্য প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন।
তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কিছু পশ্চিমা দেশ ইরানের তরুণ সমাজ ও নারীদের উস্কানি দেয়ার পাশাপাশি মিডিয়াকে তাদের অশুভ লক্ষ্য চরিতার্থ করার কাজে ব্যবহার করছে যা কূটনৈতিকভাবে ‘অগঠনমূলক’। আমির-আব্দুল্লাহিয়ান বলেন, দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি যারা পুলিশের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োগ করেছে সন্দেহাতীতভাবে ইরানের আইন অনুযায়ী তাদের বিচার করা হবে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে ইরানে মহিলা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি নারী মাহসা আমিনি অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর থেকে গত কিছু দিন ধরে সহিংসতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে যাচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল।অন্যদিকে ইরানের যেসব শত্রু এদেশের ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চায় তারা এই নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের মাধ্যমে তেহরান সরকারের পতন ঘটানোর আশায় দাঙ্গাবাজদের নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে।
আমেরিকা ও তার পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর এ ধরনের হস্তক্ষেপকামী আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। বিশেষ করে ব্রিটিশ সরকারের ইরান-বিদ্বেষী আচরণের নিন্দা জানিয়ে তেহরান বলেছে, লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত কিছু টিভি চ্যানেল প্রতি মুহূর্তে ইরানে সহিংসতা ও নৈরাজ্যকে উস্কে দিচ্ছে। এসব চ্যানেলের মধ্যে রয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল, মানোতো এবং বিবিসি পার্সিয়ান।#
পার্সটুডে/এমএমআই/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।