বেইজিংয়ে আব্দুল্লাহিয়ান-ফয়সালের বৈঠক
তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান এবং ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আজ বৃহস্পতিবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে সাক্ষাতে মিলিত হন এবং তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আবারো একমত হন।
২০১৬ সালে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। ৭ বছর পর চীনের মধ্যস্থতায় তেহরান এবং রিয়াদ রাজধানী বেইজিংয়ে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঐক্যমতের চুক্তিতে পৌছান। চুুক্তিতে দুই মাসের মধ্যে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বেইজিং চুক্তির এক মাস পর হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান ও ফয়সাল বিন ফারহানের মধ্যে আজকের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। এছাড়াও, গত মাসে আমির আবদুল্লাহিয়ান এবং ফয়সাল ফোনে তিনবার কথা বলেছেন। দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এসব তৎপরতার মাধ্যমে এটা দেখা যাচ্ছে যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং সৌদি আরব উভয়ই মুসলিম এবং পশ্চিম এশীয় অঞ্চলের দুটি প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তেজনা অবসানের পাশাপাশি সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত ও সম্প্রসারণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ প্রসঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি বলেছেন, আমির আবদুল্লাহিয়ান ও ফয়সালের আজকের বৈঠকের পর আজ থেকে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক সক্রিয় হয়েছে।
আরেকটি বিষয় হল যে ইরান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে টেলিফোনালাপের মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে তেহরান ও রিয়াদের ইচ্ছা কেবল দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা নয় বরং সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার প্রতি গুরত্ব দেয়া হয়েছে। ফয়সাল বিন ফারহানের সাথে আজকের বৈঠকের পর হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান একটি টুইটে লিখেছেন," তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু, হজ ওমরাহ চালু, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা, দূতাবাস এবং কনস্যুলেট জেনারেল পুনরায় চালু করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার উপর জোর দেওয়া - এসব বিষয়ে আজকের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান ও ফয়সালের মধ্যে আজকের বৈঠক সৌদি আরব ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে সম্পর্কের পুনরুজ্জীবন এবং দুই দেশের স্বার্থ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্পর্কে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি অভিন্ন বোঝাপড়া এবং উপলব্ধি তৈরির ফলাফল। প্রকৃতপক্ষে তেহরান এবং রিয়াদ একটি সাধারণ বোঝাপড়ায় এসেছে যে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং শত্রুুতা জোরদার করার মাধ্যমে পারস্পরিক সুবিধা সুরক্ষিত হবে না বরং সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই তা অর্জিত হতে পারে। আমির আবদুল্লাহিয়ান এবং ফয়সাল বিন ফারহানের মধ্যে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে নাসের কানানি বলেছেন: "উভয় পক্ষই নিরাপত্তার অন্তর্নিহিত প্রকৃতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছে।"
পরিশেষে বলা যায় যে গত মাসে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে চুক্তির পর পশ্চিম এশীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক অগ্রগতি প্রমাণ করে যে মুসলিম দেশগুলো পরস্পরের মধ্যে মতবিরোধ যতই কমিয়ে আনবে এবং সহযোগিতা ও সম্পর্কের উন্নয়নে যত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তত বেশি নিজেদের মধ্যে আরো স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বিরাজ করবে। আশা করা হচ্ছে যে আমির আবদুল্লাহিয়ান এবং ফয়সালের মধ্যে আজকের বৈঠক যা ছিল দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক বৈঠক এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য আরও ইতিবাচক এবং সুনির্দিষ্ট ফলাফল বয়ে আনবে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।