গাজায় নাৎসি স্টাইলের নৃশংসতম ইসরাইলি গণহত্যা: রক্তাক্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i151738-গাজায়_নাৎসি_স্টাইলের_নৃশংসতম_ইসরাইলি_গণহত্যা_রক্তাক্ত_ইতিহাসের_পুনরাবৃত্তি
পার্স টুডে - একজন মার্কিন লেখক লিখেছেন: গাজা ধ্বংসের অর্থ কেবল জাতিগত নির্মূল বা একটি ফিলিস্তিনি শহর ধ্বংস করা নয়, বরং এটি একটি জাতি, একটি সংস্কৃতি এবং একটি ইতিহাস মুছে ফেলার প্রচেষ্টার সমতুল্য; এ এমন এক ইতিহাস যা ইহুদিবাদী ইসরাইল গড়ে তোলার মৌলিক অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত মিথ্যাচারগুলোর স্বরূপ তুলে ধরছে।
(last modified 2026-03-08T13:29:51+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৫ ১৮:৩৭ Asia/Dhaka
  • গাজার উঁচু ভবনগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে দখলদার ইসরায়েল
    গাজার উঁচু ভবনগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে দখলদার ইসরায়েল

পার্স টুডে - একজন মার্কিন লেখক লিখেছেন: গাজা ধ্বংসের অর্থ কেবল জাতিগত নির্মূল বা একটি ফিলিস্তিনি শহর ধ্বংস করা নয়, বরং এটি একটি জাতি, একটি সংস্কৃতি এবং একটি ইতিহাস মুছে ফেলার প্রচেষ্টার সমতুল্য; এ এমন এক ইতিহাস যা ইহুদিবাদী ইসরাইল গড়ে তোলার মৌলিক অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত মিথ্যাচারগুলোর স্বরূপ তুলে ধরছে।

প্যালেস্টাইন ইনফরমেশন সেন্টার সম্প্রতি আমেরিকান লেখক ক্রিস হেজেসের একটি প্রবন্ধের উদ্ধৃতি তুলে ধরে লিখেছে: সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তার বিশাল যুদ্ধযন্ত্র ব্যবহার করে এমন অপরাধযজ্ঞ চালাচ্ছে যা নাৎসি নৃশংসতার কথা মনে করিয়ে দেয়: জনগণকে গণহারে অনাহারে রাখা থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলির মধ্যে একটি গাজা শহর ধ্বংস করা পর্যন্ত সেই একই ধরনের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি।

গাজায় বুলডোজার ও ভারী যন্ত্রপাতি শত শত জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে ফেলছে, অন্যদিকে ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক ও জঙ্গি বিমান ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে যাওয়াদের দক্ষিণ দিকে ঠেলে দিতে আশেপাশের এলাকায় গোলাবর্ষণ করছে।

গাজাকে মানব-শূন্য একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার প্রক্রিয়াটি কয়েক মাস সময় নেবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপ যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল তার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সে সময় নাৎসি জার্মান সেনাবাহিনী পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।

আল-সাব্রা ও আল-তুফাহর মতো এলাকাগুলো এখন দ্রুত জনশূন্য হয়ে পড়ছে। এখানে পানীয় জলের অভাব রয়েছে এবং দখলদার ইসরায়েল উত্তর গাজায় এর প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। গাজায় খাবার খুবই দুর্লভ বা খুবই ব্যয়বহুল; এক কেজি আটার দাম ২২ ডলারে পৌঁছেছে এবং কখনও কখনও এর দাম মানুষের জীবনের সমান।

ক্ষুধা বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক কর্তৃপক্ষ "খাদ্য সুরক্ষার পর্যায় পরিমাপ প্যানেল" (আইপিসি)- এর প্রতিবেদন অনুসারে, গাজায় প্রথমবারের মতো দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৫ লাখেরও বেশি মানুষ "ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মৃত্যুর" মুখোমুখি হচ্ছে এবং শীঘ্রই এই পরিস্থিতি দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনিসে ছড়িয়ে পড়বে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে, ১১২ জন শিশু সহ প্রায় ৩০০ জন ক্ষুধার্ত অবস্থায় মারা গেছে।

তবে, এই নৈতিক বিপর্যয়ের প্রতি পশ্চিমা নেতাদের প্রতিক্রিয়া কেবল নীরবতা অথবা লোক-দেখানো অগভীর অনুশোচনার  প্রকাশ। জো বাইডেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অনেক ইউরোপীয় নেতা কেবল এইসব অপরাধে জড়িত তা নন, তারা একইসঙ্গে ইসরায়েলকে অস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা পাঠিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের গণহত্যার সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

ইসরায়েল বলছে যে তারা গাজা  কেবল "দখল" করতে চায়, কিন্তু বাস্তবতা হল গাজাকে তারা পুরোপুরি ধ্বংস করতে চায়। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ খোলাখুলি ঘোষণা করেছেন যে গাজা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া উচিত এবং অবশিষ্ট ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণাঞ্চলে তাড়িয়ে দেয়া উচিত এবং তারপর অন্যান্য দেশে অভিবাসনে বাধ্য করা উচিত।

একইভাবে, গাজার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মামলুক-যুগের আল-পাশা প্রাসাদ, বারকুক দুর্গ, গ্রেট উমারি মসজিদ এবং এমনকি ঐতিহাসিক রোমান ও কমনওয়েলথ কবরস্থানের মতো প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভগুলো ধ্বংস করা হয়েছে, এসবের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, সংরক্ষণাগার, হাসপাতাল এবং গির্জাও ধ্বংস করা হয়েছে। তিন হাজার বছরেরও বেশি পুরনো প্রাচীন অ্যান্থেডন বন্দর (আল-বালাখিয়া) এখন মাটির স্তূপ। ঐতিহাসিক এই নিদর্শনগুলো ধ্বংস করার অর্থ মানব সভ্যতার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির উপর সরাসরি আক্রমণ।

এই নীতি কেবল ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ নয়, একইসঙ্গে তা বিশ্ব-সভ্যতার ঐতিহ্যের উপরও হামলা। বসনিয়ায় যেমন সার্বরা মসজিদ উড়িয়ে অতীত মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল, গাজায়ও ইসরায়েলের একই লক্ষ্য রয়েছে: অতীত মুছে ফেলা এবং দখলদারিত্ব ও গণহত্যাকে ন্যায্যতা দিতে ইহুদিবাদী কল্প-কাহিনীগুলোকে সেসবের স্থলাভিষিক্ত করা।

ইসরায়েল যখন গাজাকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে চাইছে, তখন তারা আসলে নিজের ধ্বংসেরই বীজ বপন করছে। বাস্তবতা অস্বীকার, সহিংসতা এবং গণহত্যার ওপর গড়ে-ওঠা ইসরায়েল, আজ হোক কাল হোক এক অনিবার্য সত্যের মুখোমুখি হবে, আর তা হল: ভেতর থেকেই ধ্বংস হয়ে যাওয়া। #
 

পার্স টুডে/এমএএইচ/০৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।