নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলের চার মন্ত্রীকে বয়কট করার আহ্বান অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের
-
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
পার্সটুডে- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূল এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানি ব্রডকাস্টিং এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে পার্সটুডে জানিয়েছে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি নতুন প্রতিবেদনে "ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অপরাধ করার" জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার মন্ত্রিসভার চার মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ সেই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীরে একটি সংগঠিত জাতিগত নির্মূল অভিযানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূমি সংযুক্তিকরণের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে। সংস্থাটির মতে, এই নীতিগুলোর লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও বাস্তুচ্যুত করা; এই মানবাধিকার সংস্থাটির দৃষ্টিতে এই কাজটি "মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ" হিসেবে বিবেচিত।
এ প্রসঙ্গে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড, পশ্চিম তীরের বাস্তব পরিস্থিতি উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেন: আমরা আজ যা প্রত্যক্ষ করছি তা হলো ভূমি সংযুক্তিকরণের একটি পরিকল্পিত ও রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত প্রক্রিয়া যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখের সামনেই সংঘটিত হচ্ছে।
তিনি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস আচরণকে পরিকল্পিত নীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করে স্পষ্ট করে বলেন, এই কর্মকাণ্ডগুলোকে বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে গণ্য করা যায় না বরং এগুলো রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত জাতিগত নির্মূল অভিযানের অংশ।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অবশেষে সরকারগুলোকে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং আরব দেশগুলোকে, ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের সম্পদ জব্দ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পাশাপাশি দখলদারিত্বকে দীর্ঘায়িত করতে সাহায্য করে এমন বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।