ডিসকভার ইরান:
দক্ষিণ খোরাসান: সুপ্ত সম্পদের ভাণ্ডার ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি
পার্সটুডে: ইরানের পূর্বাঞ্চলের বিস্তৃত মরুভূমি আর ঝলসানো রোদের নিচে দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশে নীরবে এক গভীর পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তনের উৎস লুকিয়ে আছে মরুর বুকের গভীরে চাপা পড়ে থাকা অগণিত খনিজ সম্পদে।
জাফরান ও ঐতিহাসিক বাগানের জন্য পরিচিত দক্ষিণ খোরাসান এখন দ্রুতই ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। প্রদেশটির তাবাস ও নেহবন্দান শহর দু’টি যেন এই ভূগর্ভস্থ সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিয়েছে।
পার্সটুডে জানিয়েছে, ব্যারাইট, লবণ, কয়লা ও সোনার মতো খনিজ আহরণ এখানে শুধু শিল্পকারখানার প্রয়োজন মেটাচ্ছে না; বরং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান, আঞ্চলিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।
তাবাস ও নেহবন্দান: দক্ষিণ খোরাসানের খনিজ হৃদয়ভূমি
দক্ষিণ খোরাসান এখন পরিচিত ‘খনিশ্রমিকদের বেহেশত’ হিসেবে। পুরো প্রদেশে প্রায় ৪০০ কোটি টন খনিজ মজুদ রয়েছে। সক্রিয় ৬৪৮টি খনিতে সরাসরি ১২ হাজার মানুষ কাজ করেন এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে বিপুল বিনিয়োগ প্রবাহিত হচ্ছে।
নেহবন্দান বিশেষভাবে খ্যাত তার অসাধারণ বৈচিত্র্যের জন্য। ২৩ ধরনের খনিজ মজুদ নিয়ে এটি প্রদেশের প্রথম স্থানে রয়েছে এবং ব্যাপকভাবে পরিচিত ‘দক্ষিণ খোরাসানের খনিজ স্বর্গ’ নামে।
এখানকার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের মধ্যে রয়েছে লিথিয়াম—যা পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির অন্যতম অপরিহার্য উপাদান।
জেলার হিরাদ সোনার খনিও উল্লেখযোগ্য; যেখানে ৪.৯১ মিলিয়ন টন প্রমাণিত মজুদ, ১৮০০ বিলিয়ন রিয়ালেরও বেশি বিনিয়োগ এবং বছরে ২০০ কেজি সোনা উৎপাদন আধুনিক খনিশিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরে।
অন্যদিকে তাবাস ইরানে পরিচিত ‘কয়লার রাজধানী’ হিসেবে। এখানে রয়েছে ১.১ বিলিয়ন টন কয়লা মজুদ, যা দেশের সবচেয়ে বড় ভাণ্ডার। পাশাপাশি, তাবাসে একশ’র বেশি ধরণের খনিজ চিহ্নিত হয়েছে এবং এর ৬৮টি সক্রিয় খনি দক্ষিণ খোরাসানের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রপ্তানির বৈশ্বিক পথ
তাবাস ও নেহবন্দানের খনিজ পণ্যের বাজার শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়; এখানকার সবুজ গ্রানাইট, ক্রোমাইট, বেন্টোনাইট ও ম্যাগনেসাইট রপ্তানি হচ্ছে চীন, ইরাক, তুরস্ক, আর্মেনিয়া, ইউরোপ এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে।
এই বিস্তৃত রপ্তানি প্রমাণ করে যে, দক্ষিণ খোরাসানের খনিগুলো শুধু আঞ্চলিক বাণিজ্যের শক্তিই নয়—বরং জাতীয় অর্থনীতিরও নির্ভরযোগ্য ভিত্তি। মরুর কাঁচামাল এভাবেই পরিণত হচ্ছে বিশ্ববাজারের মূল্যবান সম্পদে।#
পার্সটুডে/এমএআর/২