মর্যাদাপূর্ণ কূটনীতির পথে আসুন: আমেরিকাকে আরাকচি / মার্কিন প্রতিনিধি বাগাড়ম্বর করেছেন: বাকায়ি
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i155454-মর্যাদাপূর্ণ_কূটনীতির_পথে_আসুন_আমেরিকাকে_আরাকচি_মার্কিন_প্রতিনিধি_বাগাড়ম্বর_করেছেন_বাকায়ি
পার্সটুডে- ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধির বক্তব্যের জবাবে বলেছেন, এটি আলোচনা নয়, বরং শর্ত চাপিয়ে দেওয়া; অর্থবহ আলোচনা তো দূরের কথা!
(last modified 2025-12-25T10:17:41+00:00 )
ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫ ১১:২১ Asia/Dhaka
  • আরাকচি
    আরাকচি

পার্সটুডে- ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধির বক্তব্যের জবাবে বলেছেন, এটি আলোচনা নয়, বরং শর্ত চাপিয়ে দেওয়া; অর্থবহ আলোচনা তো দূরের কথা!

মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি মরগান অর্টাগাস ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সংক্রান্ত আলোচনায় অচলাবস্থার কারণ সম্পর্কে ভিত্তিহীন দাবি পুনরাবৃত্তি করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপের জন্য প্রস্তুত; তবে শর্ত হলো, তেহরানকে সরাসরি ও অর্থবহ আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”

তিনি জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধির উদ্দেশে বলেন, “আপনি কূটনীতির হাত ধরার বদলে এখনো নিজের হাত আগুনে রাখছেন। জনাব, আগুন থেকে দূরে থাকুন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কূটনীতির হাত গ্রহণ করুন। এই হাত আপনার দিকেই বাড়ানো হয়েছে।”

পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক মার্কিন উপ-বিশেষ দূত মরগান অর্টাগাসের আলোচনা সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি। আরাকচি বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতির নতুন সংজ্ঞা হলো এরকম- আমরা অর্থবহ আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে আপনাদেরকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকারগুলো ভুলে যেতে হবে!"

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “এটি আলোচনা নয়, এটি শর্ত চাপিয়ে দেওয়া; অর্থবহ আলোচনা তো দূরের কথা!”
তিনি আরও লিখেছেন, বিশ্ব দেখেছে— আমরা যখন আলোচনায় ছিলাম, তখনই যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জনগণের জন্য আগুনের দরজা খুলে দিয়েছে এবং কূটনীতিকে ধ্বংস করেছে। আর আমরা সব সময় যা করে থাকি সেটাই করেছি: যারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের কঠোরভাবে জবাব দিয়েছি এবং নিজেদের কাজের জন্য অনুতপ্ত হতে বাধ্য করেছি।
আরাকচি বলেন, “কূটনীতির জন্য হাত বাড়ানো”র অর্থ এই নয় যে বোমারু বিমান পাঠাবেন, তারপর গর্বের সঙ্গে ব্যর্থতাকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরবেন! তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা না করে প্রকৃত ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনীতির পথে ফিরে আসুন।

মার্কিন প্রতিনিধির বাগাড়ম্বর কেবলি প্রচারণা: বাকায়ি

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বুধবার বলেছেন, “কূটনীতি ও আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধির বাগাড়ম্বর কেবল জনমতকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে প্রচারণা মাত্র। ইরান যেখানে সব সময় ‘অর্থবহ’ কূটনীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে, তাদের না আছে সদিচ্ছা, না আছে আন্তরিকতা।”

বাকায়ি আরও বলেন, এসব বক্তব্য বাস্তবতাকে উল্টোভাবে উপস্থাপনের ব্যর্থ চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। ইরান আলোচনা ত্যাগ করেনি; যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছে। আমরা কয়েক শতাব্দী আগের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার কথা বলছি না। কূটনীতির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা মাত্র কয়েক মাস আগেই ঘটেছে এবং বিষয়টি একেবারেই সাম্প্রতিক।

তিনি প্রশ্ন তোলেন- ২০১৮ সালে পরমাণু সমঝোতা (জেসিপিওএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার কি ইরানের কাজ ছিল? দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল এবং ১৫ জুন ষষ্ঠ দফা আলোচনার তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু তারা ১৩ জুন ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এটাই কি সেই “কূটনীতির জন্য বাড়ানো হাত”-এর বাস্তব প্রতিফলন?#

পার্সটুডে/এসএ/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন