আরাকচি: ইরানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী ঘটনায় বিদেশি হস্তক্ষেপের অনেক প্রমাণ রয়েছে
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i156020-আরাকচি_ইরানে_সাম্প্রতিক_সন্ত্রাসী_ঘটনায়_বিদেশি_হস্তক্ষেপের_অনেক_প্রমাণ_রয়েছে
পার্সটুডে - ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, এই বিশৃঙ্খলার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের জড়িত থাকার অনেক প্রমাণ রয়েছে যা জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
জানুয়ারি ১২, ২০২৬ ১৮:২০ Asia/Dhaka
  • আরাকচি: ইরানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী ঘটনায় বিদেশি হস্তক্ষেপের অনেক প্রমাণ রয়েছে

পার্সটুডে - ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, এই বিশৃঙ্খলার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের জড়িত থাকার অনেক প্রমাণ রয়েছে যা জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

সোমবার তেহরানে বসবাসকারী বেশ কয়েকজন বিদেশি নেতা এবং প্রতিনিধিদের সাথে এক বৈঠকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেন,  ২৮শে ডিসেম্বর থেকে আমরা কিছু শান্তিপূর্ণ অর্থনৈতিক বিক্ষোভ প্রত্যক্ষ করেছি যা মূলত বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ইরান সরকারও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায়  বসে।

পার্সটুডে অনুসারে,আরাকচি বলেছেন, এই আলোচনার পরে বিক্ষোভ কমতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে বিক্ষোভ শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তবে, ১ জানুয়ারি থেকে কিছু লোক রাস্তায় নেমে এসে এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভগুলোকে সহিংসতায় পরিণত করার চেষ্টা করে। ৮ থেকে ১০ জানুয়ারী পর্যন্ত আমরা এই বিক্ষোভগুলোতে সন্ত্রাসী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপাদানগুলোর প্রবেশ প্রত্যক্ষ করেছি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন,  এটা স্পষ্ট যে এই বিক্ষোভগুলোতে তাদের মূল পথ থেকে সরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক সহিংসতা,বিশৃঙ্খলা এবং সংঘাতে পরিণত করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

আরাকচি বলেছেন,  এই পর্যায়ে, আমরা দেখেছি যে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো পুলিশ বাহিনী এবং সাধারণ ইরানি জনগণের উপর গুলি চালাচ্ছিল এবং তাদের লক্ষ্য ছিল মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি করা। এই বিষয়ে অনেক প্রমাণ রয়েছে যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, "সন্ত্রাসীরা এমনকি মানুষের দোকানপাট ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে এবং অ্যাম্বুলেন্স, মসজিদ এবং বাসে আক্রমণ করেছে। এমনকি তারা আহতদেরও হত্যা করেছে। একটি ঘটনায় লোকেরা ১১ জন আহতকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু সন্ত্রাসীরা বলেছিল যে তারা তাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে এবং তারপর দেখা গেল যে তারা তাদের গুলি করে হত্যা করেছে।"

আরাকচি জোর দিয়ে বলেন, যারা শহীদ হয়েছেন তাদের এই সন্ত্রাসীরা গুলি করে অথবা অমানবিকভাবে হত্যা করেছে। উদাহরণস্বরূপ, মানুষের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে অথবা মাথায় পাথর মেরে পুলিশকে আঘাত করে শহীদ করা হয়েছে। তারা আইসিসের মতো ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করছিল। ৮ই জানুয়ারি থেকে আমরা প্রতিবাদ দেখছি না। এখন যা হচ্ছে তা হলো আমাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা নিজেরাই স্বীকার করেছে যে তাদের প্রচুর অর্থ দেওয়া হয়েছিল, উদাহরণস্বরূপ, পুলিশ স্টেশনে আক্রমণ করার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। তাদের সমস্ত নথি এবং স্বীকারোক্তি সেখানে রয়েছে। তাদের লোকজনকে গুলি করার ভিডিও রয়েছে। এমনকি আমাদের কাছে তাদের অস্ত্র দেখানোর ভিডিও রয়েছে।#

পার্সটুডে/এমবিএ/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন