ইরানের সহিংসতায় বিদেশি প্রভাব: গণমাধ্যমে উঠে এলো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i156072-ইরানের_সহিংসতায়_বিদেশি_প্রভাব_গণমাধ্যমে_উঠে_এলো_তিনটি_গুরুত্বপূর্ণ_দিক
পার্সটুডে: সম্প্রতি ইরানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রতি বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি বার্তায় লিখেছেন: “নতুন বছরের শুভেচ্ছা সকল ইরানিদের, যারা রাস্তায় আছেন। এছাড়াও সকল মোসাদ এজেন্টদের, যারা তাদের সঙ্গে রয়েছেন।”
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ১৩:৩৭ Asia/Dhaka
  • তেহরানে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে একটি মিছিলে অংশগ্রহণকারী একজন ইরানি তরুণী
    তেহরানে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে একটি মিছিলে অংশগ্রহণকারী একজন ইরানি তরুণী

পার্সটুডে: সম্প্রতি ইরানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রতি বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি বার্তায় লিখেছেন: “নতুন বছরের শুভেচ্ছা সকল ইরানিদের, যারা রাস্তায় আছেন। এছাড়াও সকল মোসাদ এজেন্টদের, যারা তাদের সঙ্গে রয়েছেন।”

এই বার্তা অনেককে বিভ্রান্ত এবং চিন্তিত করেছে। ইরানি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রমাণ ও দলিলগুলোকে সমর্থন করেছে যে, সন্ত্রাসীরা ইসরায়েলের এজেন্টদের মাধ্যমে পরিচালিত বা অন্তত তাদের দ্বারা প্রভাবিত।

প্রথম উদ্ধৃতি: 'অগ্নিসংযোগ সাধারণ মানুষের কাজ হতে পারে না'

তেহরানের ৩৯ বছর বয়সী নারী সারা, যিনি ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিরোধী ছিলেন, মিডল ইস্ট আই-কে বলেছেন, তিনি পম্পেওর বক্তব্যে বিভ্রান্ত। তিনি যোগ করেছেন:

“আমি জানি না মাইক পম্পেওর টুইটের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, যেখানে তিনি বলেছেন যে, প্রতিবাদকারীদের মধ্যে মোসাদ এজেন্টরা রয়েছেন; ব্যক্তিগতভাবে আমি সন্দিহান যে, কিছু অংশের প্রতিবাদকে ইচ্ছাকৃতভাবে সহিংসতার দিকে ঠেলেছে।”

সারা জোর দিয়ে বলেছেন:

“যখন আপনি অগ্নিসংযোগের ভিডিও দেখেন, তখন মনে হয় এটি সাধারণ মানুষের কাজ হতে পারে না। মনে হয় তারা শুধুমাত্র ধ্বংসযজ্ঞ করতে চায়।”

তিনি ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার প্রসঙ্গে বলেন:

“গত এক বা দুই বছরে, ইসরায়েল প্রায় সমস্ত অঞ্চলে হামলা করেছে। ইহুদিবাদীরা চায়- পুরো অঞ্চল বিশৃঙ্খলার মধ্যে থাকুক, আর তারা নিরাপদে থাকুক।”

একই প্রসঙ্গে, তেহরানের ২৮ বছর বয়সী রেজা বলেছেন, 'ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু উভয়ই যুদ্ধাপরাধী'।

তিনি কি বিশ্বাস করেন ইসরায়েল সত্যিই একটি গণতান্ত্রিক ইরান চায়- এই প্রশ্নে জবাবে রেজা বলেন, এটি একটি অবান্তর প্রশ্ন। তিনি বলেন,

“ইসরায়েল কখন কি গণতন্ত্রকে স্বাগত জানিয়েছে? ইসরায়েল চায় একটি দুর্বল ইরান।”

দ্বিতীয় উদ্ধৃতি: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য বিদেশি হস্তক্ষেপ

আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ইরানের প্রতিবাদ মূলত কঠোর অর্থনৈতিক চাপের ফল। তবে ইরানিরা বুঝতে পেরেছে যে, ইসরায়েল এই পরিস্থিতিকে অসদুদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলায় করেছে।
তাদের বক্তব্য, যদিও মতভেদ থাকতে পারে, তবুও ইরানিরা চাইছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য।

এই বিশেষজ্ঞরা সোমবার ওয়াশিংটনের কুইন্সি ইনস্টিটিউট-এর আয়োজনে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় বলেছেন:

“যদিও কিছু মতামত আলাদা হতে পারে, তবুও বেশিরভাগ ইরানি চায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য।”

তৃতীয় উদ্ধৃতি: পশ্চিমারা কি সত্যিই নারী ও গণতন্ত্রের পাশে আছে?

নিউ আরব (New Arab) একটি নিবন্ধে ইরানে সন্ত্রাসীদের সমর্থনে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার কথা উল্লেখ করে একজন ইরাকি নাগরিকের সাথে সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। জাহরা আলী তার সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পশ্চিমারা প্রায়ই ইরানের জনগণের আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়।”

তিনি আরও যোগ করেছেন:

“ইসরায়েল বারো দিনের যুদ্ধে ইরানের জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল এবং শত শত মানুষ নিহত হয়েছিল, তখন কেন পশ্চিমা নারীবাদীদের কণ্ঠ শোনা যায়নি?”

জাহরা আলী জোর দিয়ে বলেছেন:

“আমরা কি শুধু তখনই গুরুত্বপূর্ণ যখন নব্যউপনিবেশবাদী স্বার্থের জন্য আমাদের ব্যবহার করা হয়? পশ্চিমা পৃথিবী কি সত্যিই নারীর ও গণতন্ত্রের পাশে?”

তিনি জোর দিয়ে বলেন:

“আমি একজন ইরাকি হিসেবে ইরান ও ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে আছি এবং অত্যাচারী পশ্চিমা নেতাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করি।”#

পার্সটুডে/এমএআর/১৪