ইরান ও ইরাকের নিরাপত্তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য: ফুয়াদ হুসেইন
আইন আল-আসাদ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরাকের সার্বভৌমত্ব সুসংহত হবে: আরাকচি
-
সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ইরাকের আইন আল-আসাদ সামরিক ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার দেশটির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতাকে আরও সুসংহত করবে। তিনি এই পদক্ষেপকে ইরাকের ক্রমবর্ধমান স্বাধীনতা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে অভিহিত করেন।
আজ (রোববার) তেহরানে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন আরাকচি। এর আগে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরাকচি বলেন, “আইন আল-আসাদ ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রত্যাহার এবং জাতিসংঘের ইরাক সহায়তা মিশন (ইউএনএএমআই) শেষ হওয়ার ঘটনাই ইরাকের স্বাধীনতা, স্থিতিশীলতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে ওঠার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।”
তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সবসময় একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও স্বাধীন ইরাকের পক্ষে এবং তেহরান বিশ্বাস করে যে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে।
ইরাকের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় সেটিকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে আরাকচি বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও বিকশিত করার জন্য নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
তিনি আরও বলেন, “ইরাকের আঞ্চলিক ভূমিকা ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। আমাদের ইরাকি বন্ধুরা প্রমাণ করেছেন যে, তারা সংলাপ, বোঝাপড়া এবং সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।”
আরাকচি জানান, বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে যৌথভাবে গ্রহণযোগ্য বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান ও ইরাক একটি ‘কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি’ অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে এবং তেহরান একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ ও রাজনৈতিকভাবে সার্বভৌম ইরাককে সমর্থন দিয়ে যাবে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন বলেন, ইরান ও ইরাকের নিরাপত্তা কেবল দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; বরং তা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ইরাক ও ইরানের নিরাপত্তা আঞ্চলিক নিরাপত্তারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইরানি জনগণের নিরাপত্তা আমাদের কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
হুসেইন জানান, তেহরান সফরের আগে তিনি যেসব আঞ্চলিক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, তাদের আলোচনাতেও আঞ্চলিক নিরাপত্তার পারস্পরিক নির্ভরশীলতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, ইরান ও ইরাক আঞ্চলিক নিরাপত্তার অবিভাজ্যতা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়মিত পরামর্শ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
ফুয়াদ হুসেইন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে ঘটে যাওয়া বিদেশি মদদপুষ্ট সহিংস দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে দেশটির সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও তাকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার প্রত্যক্ষ প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতিবাদে ইরানের বিভিন্ন শহরে কিছু ব্যবসায়ী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য ও উসকানির পর এসব বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়।
অস্থিরতার সময় বিদেশি মদদপুষ্ট সশস্ত্র দাঙ্গাবাজরা সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সহিংসতায় বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানান।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৮