ইরানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আমেরিকাকে জবাবদিহি করতেই হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i156304-ইরানে_সন্ত্রাসী_কর্মকাণ্ডের_জন্য_আমেরিকাকে_জবাবদিহি_করতেই_হবে_পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পার্সটুডে- ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি ইন্টারনেট ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'সেদায়ে ইরান'-এ লেখা সম্পাদকীয়তে ইরানে সম্প্রতি নৈরাজ্য ও অরাজকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা এবং এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ব্যাখ্যা করেছেন।
(last modified 2026-01-21T14:20:59+00:00 )
জানুয়ারি ২১, ২০২৬ ১৮:১৫ Asia/Dhaka
  • আরাকচি
    আরাকচি

পার্সটুডে- ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি ইন্টারনেট ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'সেদায়ে ইরান'-এ লেখা সম্পাদকীয়তে ইরানে সম্প্রতি নৈরাজ্য ও অরাজকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা এবং এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি লিখেছেন, সম্প্রতি ইরানে যেসব ঘটনা ঘটেছে ও যেসব সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো হয়েছে তা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে এর আগে চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের ধারাবাহিকতা। এর মধ্যদিয়ে আবারও ইরানের প্রতি মার্কিন সরকারের আচরণের প্রকৃত রূপ উন্মোচিত হয়েছে। এসব ঘটনা বিশ্ব জনমতের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, আর তাহলো- রাষ্ট্রগুলো কি কোনো জবাবদিহি ও শাস্তি ছাড়াই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ চালিয়ে যেতে পারে?

তিনি আরও লিখেছেন, মাঠ পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ও সরকারি বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি সংঘটিত সন্ত্রাসী অভিযান কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা, তাদের গণমাধ্যম ও অন্যান্য সর্বাত্মক সহায়তায় পরিচালিত একটি পরিকল্পিত প্রকল্পের অংশ ছিল। অনুচরদের প্রশিক্ষণ, সাজ-সরঞ্জাম সরবরাহ, দিক- নির্দেশনা প্রদান, সহিংসতার জন্য উসকানি দেওয়া এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নাজুক হিসেবে তুলে ধরার মতো বিষয়গুলো মানুষের শান্তিপূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়। এভাবেই এই প্রতিবাদকে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক আইন-অধিকারের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আরাকচি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিধি শুধু জনগণের জীবন ও সম্পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও সাধারণ দোকানপাট ধ্বংস, পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা ও নিরীহ নাগরিকদের প্রাণহানি—এসব থেকে এটা স্পষ্ট যে, দাঙ্গাকারীদের লক্ষ্য ছিল মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে অচল করা এবং সামাজিক আতঙ্ক সৃষ্টি করা। এর বাইরে কিছু দেশে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে হামলার মাধ্যমে ১৯৬১ ও ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশন সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এটা কূটনীতির রেডলাইন অতিক্রমের প্রতীক। মার্কিন কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য অবস্থান ও বক্তব্য—বিশেষ করে দাঙ্গাকারীদের প্রতি তাদের প্রকাশ্য সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের হুমকি—আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা যায় না, জাতিসংঘ সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর ধারায় বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকি প্রদানকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এছাড়া রয়েছে ১৯৭০ সালের ২৪ অক্টোবর অনুমোদিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৬২৫ নম্বর ইশতেহার, পাশাপাশি ১৯৮১ সালের আলজিয়ার্স ঘোষণাসমূহ ও সন্ত্রাসবিরোধী আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারসমূহ রয়েছে। এগুলো লঙ্ঘন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে বারবার সুস্পষ্ট  হুমকি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হচ্ছেন স্বাধীন রাষ্ট্র ইরানের সর্বোচ্চ আনুষ্ঠানিক পদ। এ ধরণের হুমকি ভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করার নীতির প্রকাশ্য লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রনেতাদের আক্রমণ না করার নীতিকে উপেক্ষা করার শামিল, যা স্বীকৃত প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের অংশ এবং নিঃসন্দেহে এর ব্যাপক আইনি ও রাজনৈতিক পরিণতি ও প্রভাব রয়েছে।

ইরানের আইনি পদক্ষেপ; আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি স্পষ্ট বার্তা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে এবং ইরানি জাতির অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে ১২ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ ও সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জড়িত থাকার বিরুদ্ধে আইনি ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া গুরুত্বের সঙ্গে ও ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিচ্ছে। শত্রুতামূলক হস্তক্ষেপ ও কার্যক্রমের প্রমাণ নথিভুক্ত করা হচ্ছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফোরাম ও আদালতে মামলা দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই পথ দৃঢ়তার সঙ্গে অব্যাহত থাকবে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের প্রত্যেক নাগরিকের অধিকারের বিষয়ে চুল পরিমাণ ছাড় দেবে না এবং জবাবদিহিতার বাইরে সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন দেওয়াকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় একটি রীতিতে পরিণত হতে দেবে না। আমেরিকাকে তার কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতেই হবে।

পার্সটুডে/এসএ/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।