ইরান ইস্যুতে আমেরিকার জন্য উত্তম পথ হচ্ছে কূটনীতি: পাকিস্তানি সামরিক বিশ্লেষক
-
সৈয়দ ফয়সাল আলী শাহ
পার্সটুডে- একজন পাকিস্তানি কূটনীতিক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউসের উচিত কূটনীতির পথ বেছে নেওয়া।
পাকিস্তানের নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল ও সামরিক বিশ্লেষক সৈয়দ ফয়সাল আলী শাহ যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতি ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দেশটির হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাজনৈতিক সমন্বিত শক্তি ও সামরিক সক্ষমতার সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারছে না। এই অঞ্চলে কোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপের পরিবর্তে তাদের উচিৎ কূটনীতির পথ অবলম্বন করা।
পার্সটুডে জানিয়েছে, সৈয়দ ফয়সাল আলী শাহ ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ও দাদাগিরিমূলক আচরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান লাতিন আমেরিকা বা মধ্য আমেরিকার দেশগুলোর মতো নয়; ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান ভিন্ন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সামরিক—উভয় ক্ষেত্রেই ইরান অত্যন্ত শক্তিশালী। রাজনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতার সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরান কেবল আঞ্চলিক শক্তি হিসেবেই নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী দেশ হিসেবেও পরিচিত।
ইসলামাবাদে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স (NIMA)-এর গবেষক বলেন, ইরানের চারপাশের সব দেশ ইরানের মতো সক্ষমতা রাখে না। তাই এই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য সহজ নয়, আর এ কারণেই তারা এখন পর্যন্ত তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
এই অঞ্চলে আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী নিয়ে আসা প্রসঙ্গে ফয়সাল আলী শাহ বলেন, আমার ধারণা এটি প্রতিপক্ষকে বার্তা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। আমেরিকানরা চায় ইরানকে তাদের মতো করে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া উচিত।#
পার্সটুডে/এসএ/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন