ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ইরানবিরোধী প্রস্তাবে তেহরানের প্রতিক্রিয়া:
'ইসরায়েলি অপরাধযজ্ঞের সহযোগীরা মানবাধিকারপন্থী বলে দাবি করতে পারে না'
-
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
পার্স টুডে – ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাম্প্রতিক এক প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ওই প্রস্তাবটি ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে ভিত্তিহীন ও ভুল অভিযোগ এবং ইরানের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে পরিপূর্ণ।
পার্স টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে :
'ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বহু সদস্য বিভিন্ন উপায়ে ইরানের বিরুদ্ধে অন্যায় নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ নিষেধাজ্ঞার অন্ধ অনুসারী হয়ে এবং ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের অপরাধে অংশ নিয়ে ইরানি জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রকাশ্য ও নির্লজ্জ লঙ্ঘনের ঘটক হিসেবে সক্রিয় ও অপরাধী। এমন একটি প্রতিষ্ঠান মানবাধিকার বিষয়ে কাউকে উপদেশ দেয়ার নৈতিক যোগ্যতা রাখে না।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়: ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা এবং পশ্চিম এশিয়ায় দখলদার ইসরায়েলের ধারাবাহিক আইনভঙ্গের বিষয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও তার বহু সদস্যের ভয়াবহ ভূমিকা তাদের “মানবাধিকার” ও “আইনের শাসন” সংক্রান্ত দাবিকে পুরোপুরি অবিশ্বাস্য করে তুলেছে। ফিলিস্তিনে গণহত্যার বিষয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নীরব সমর্থন এবং ইরানের নানা সড়কে সংঘটিত সন্ত্রাসী অপরাধযজ্ঞ উপেক্ষা করা—একই মুদ্রার দুই পিঠ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়: যে দখলদার ইসরায়েল হাজার হাজার ফিলিস্তিনি—বিশেষ করে নারী ও শিশু—হত্যার জন্য দায়ী, সেই ইসরায়েলের সমর্থকরা এখন বাস্তবতা বিকৃত করে এবং ইরানে সহিংসতা উসকে দেয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি রেজিমের সুস্পষ্ট ভূমিকা আড়াল করে ইরানকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করছে। এর উদ্দেশ্য হলো ইউরোপের দ্বিমুখী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ থেকে বিশ্ব জনমতের দৃষ্টিকে আড়াল রাখা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছ: ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাব প্রণেতারা সচেতনভাবেই জায়নিস্ট-সমর্থিত গণমাধ্যম ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবাজ গোষ্ঠীর তৈরি মিথ্যাকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। যদিও স্পষ্ট প্রমাণ—ছবি, অডিও ফাইল, মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট—দেখায় যে ১৮ থেকে ২০ দেই (৮–১০ জানুয়ারি) শান্তিপূর্ণ সমাবেশগুলোকে জায়নিস্ট-সমর্থিত সন্ত্রাসী লোকজন সহিংসতায় পরিণত করেছিল, তবুও তারা পক্ষপাতদুষ্টভাবে ইরানের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনগত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত অভিযোগগুলোর পুনরাবৃত্তি করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়: ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই প্রস্তাব শুধু মিথ্যা প্রচার ও বাস্তবতার বিকৃতিই নয়, একইসঙ্গে জাতিসংঘ সনদের গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক বিধান—বিশেষ করে স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান ও অন্য জাতির বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ ও হুমকি থেকে বিরত থাকার নীতি—স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে। এটি আবারও প্রমাণ করে যে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট আইনের শাসনের নীতিতে বিশ্বাস করে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জোর দিয়ে বলেছে: ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্র সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনি অঙ্গীকার অনুযায়ী জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা, নাগরিকদের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে নিজের দায়িত্ব মনে করে—যে কোনো সন্ত্রাসী পদক্ষেপ বা বিদেশি হুমকি ও হস্তক্ষেপের বিরোধী।
বিবৃতির শেষাংশে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাবে উল্লেখিত ইরানের আইনগত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেছে: ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বা নিরাপত্তা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যেকোনো অবৈধ ও হস্তক্ষেপমূলক সিদ্ধান্ত বা অবস্থান ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে, এবং এর পরিণতির সম্পূর্ণ দায়ভার সেইসব পক্ষের ওপরই বর্তাবে যারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।