ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র বলয়; নৌযুদ্ধে বড় ভূমিকা রাখবে কোনগুলো?
-
কোন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে সমুদ্রের তলায় পাঠাতে সক্ষম?
পার্সটুডে- 'ফাতেহ' গ্রুপের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর উন্নয়নের পাশাপাশি হাইপারসনিক 'ফাতাহ' ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উপস্থিতির দিকে নজর দিলে দেখা যায়- ইরান দেশীয় প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে দূরবর্তী জাহাজে আঘাত করার সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে বহু আগে থেকেই মনোযোগ দিয়েছে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী সামুদ্রিক হুমকির মোকাবেলায় কৌশলগত অস্ত্রের ওপর জোর দিয়েছেন। এই অবস্থায় ইরানের নানা ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষ করে হাইপারসনিক “ফাতাহ” ক্ষেপণাস্ত্রের ভূমিকা নিয়ে নানা অঙ্গনে নিরাপত্তা বিশ্লেষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ফাতাহ গ্রুপের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় বিকশিত হয়েছে এবং বর্তমানে ইরানের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জিলজাল থেকে ফাতাহ: বেড়েছে পাল্লা; হয়েছে আরও নিখুঁত
এই সক্ষমতার মূল ভিত্তি হলো ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের বিশাল পথপরিক্রমা। কঠিন জ্বালানি দিয়ে পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যদিয়ে এই শিল্প অনেক দূর এগিয়েছে। জিলজাল রকেটকে গাইডেড মিসাইল 'ফাতাহ-১১০'-তে রূপান্তর করা শুরুর মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল তাতে 'ফাতাহ-৩১৩', 'জুলফিকার', 'দেজফুল' ও 'খাইবারশেকান'-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বেড়েছে প্রায় ১৪৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। একইসঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যভ্রান্তি কমানো সম্ভব হয়েছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়।
জাহাজবিধ্বংসী “খালিজে ফার্স” এবং অ্যান্টি-রাডার ব্যবস্থা “হরমুজ” নির্মাণের মধ্যদিয়ে প্রমাণিত হয়েছে শত্রুর জাহাজ লক্ষ্য করার এবং সেগুলোর প্রবেশের সুযোগ সীমিত করার কৌশল নিয়ে বহু বছর ধরেই ইরান কাজ করছে।
ফাতাহ’র আগমন: নতুন অধ্যায়ে সূচনা
প্রায় দুই বছর আগে প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার পাল্লার এবং ১৩–১৫ মাখ গতিসম্পন্ন হাইপারসনিক ফাতাহ ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য হলো—স্মার্ট ওয়ারহেড সমৃদ্ধ, বহু রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা এবং বায়ুমণ্ডলের ভেতরে ও বাইরে পথ পরিবর্তনের ক্ষমতা, যা প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতের আঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
উন্নত ফাতাহ-২ সংস্করণে গোপনীয় গ্লাইডিং হেড এবং মধ্যপথে পথ পরিবর্তনের ক্ষমতা রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মোকাবেলায় উপযোগী।
সামুদ্রিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও ইমেজ প্রসেসিংয়ের ভূমিকা
নৌযুদ্ধে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো- উপকূল থেকে দূরের লক্ষ্য শনাক্তকরণ। কাসেম বাসির ক্ষেপণাস্ত্রের অপটিক্যাল হেডে ইমেজ প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে সংরক্ষিত ডেটার সঙ্গে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর তথ্য মিলিয়ে দেখার সুবিধা পাচ্ছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র। এর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ মোকাবেলা অনেক সহজ হয়। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে এটিকে যুক্ত করা হলে মহাসাগরে বড় জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
প্রায়োগিক পরীক্ষা ও সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস
চার বছর আগের সামরিক মহড়া এবং প্রায় এক হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের সিমুলেশন এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। ফাতাহ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন এবং ফাতেহ গ্রুপের অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র থেকে এটা স্পষ্ট যে, ইরান সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠন, শত্রুর প্রবেশের সুযোগ সীমিতকরণ এবং আঞ্চলিক সীমার বাইরে থেকে আসা হুমকি মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর মনোযোগ দিয়েছে।#
পার্সটুডে/এসএ/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।