ন্যাটোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ; বৈশ্বিক মিশন সীমিত করার চেষ্টা
পার্সটুডে: যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকে চাপ দিয়ে এই সামরিক জোটের বিদেশি মিশনগুলো কমানোর চেষ্টা করছে, বিশেষ করে ইরাকের মিশন। এই নীতি কিছু ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে প্রশ্ন ও সংশয় সৃষ্টি করেছে।
ন্যাটোর চারজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে পলিটিকো সাময়িকী জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস ন্যাটোর ভূমিকা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সদস্য দেশগুলোকে 'অঞ্চলের বাইরে কার্যক্রম' সীমিত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। এই সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চায় ন্যাটোর মূল ফোকাস হোক ইউরো-অ্যাটলান্টিক অঞ্চলের প্রচলিত প্রতিরক্ষা ও রোধ ক্ষমতার ওপর এবং সংকটপূর্ণ অঞ্চলে বিশেষ করে ইরাকে উপস্থিতি কমানো। এই পদক্ষেপ ন্যাটোর সামরিক কার্যক্রমের সীমাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট করতে পারে।
এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা সম্প্রতি কসোভোতে ন্যাটোর শান্তিরক্ষা কার্যক্রম হ্রাস করার জন্যও চেষ্টা চালিয়েছে এবং তার মিত্রদেরকে জুলাই মাসে আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটোর আনুষ্ঠানিক বৈঠকে ইউক্রেন ও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অংশীদারদের (অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া) আমন্ত্রণ জানানো থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করেছে। এই পদক্ষেপগুলোকে ন্যাটোর আন্তঃআঞ্চলিক অংশগ্রহণ সীমিত করার ওপর জোর দেয়া নীতির অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চায় ন্যাটোর ইরাক মিশন সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত শেষ হয়ে যাক। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ সালের ইরাক সরকারের সঙ্গে চুক্তির আওতায় প্রায় ২,৫০০ জন সামরিক বাহিনী দেশ থেকে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, এটি 'চিরন্তন যুদ্ধ শেষ করার জন্য দেওয়া অঙ্গীকারের অংশ'।
তবে, কিছু ন্যাটো সদস্য এই নীতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। একজন কূটনীতিক বলেছেন: “বৈশ্বিক উদ্যোগগুলো বাদ দেওয়া সঠিক নয়। অংশগ্রহণ প্রতিরক্ষা এবং রোধ ক্ষমতার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই একপাক্ষিক মনোভাব আবারও ওয়াশিংটন এবং ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে পুরনো ফাটলগুলোকে স্পষ্ট করে তুলেছে। এর ফলে ন্যাটোর বৈশ্বিক ভূমিকা ও ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৯