শত্রুর ভুলের ক্ষেত্রে ইরানের আকস্মিক পদক্ষেপ; রণতরীগুলো কি সমুদ্রে ডুবে যাবে?
-
মার্কিন রণতরী
পার্সটুডে-সম্ভবত গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে যা ঘটেছিল, তা এই বিবৃতিকে নিশ্চিত করে যে বিপ্লবী নেতার জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার বিপজ্জনক অস্ত্রের কথা অন্তর্নিহিত হুমকি।
আল-আলমের বরাত দিয়ে পার্সটুডে আরও জানায়, সর্বেঅচ্চ নেতার এই বক্তব্য কেবল ভয় দেখানোর জন্য ছিল না, তাই সম্ভাব্য পরবর্তী যুদ্ধে ইরানের আকস্মিক পদক্ষেপ আরও তীব্র হবে।
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বৈধ অধিকার এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ক্ষমতার অ-আলোচনাযোগ্য প্রকৃতিসহ তাদের রেডলাইনের ওপর জোর দেওয়া ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্বের আত্মা। তার ওপর জোর দেওয়ার মানে হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। ইসরায়েলের জন্য ওই চিন্তা একটি দুঃস্বপ্ন তৈরি করেছে।
লন্ডন থেকে আপডেট করা ইলেকট্রনিক ম্যাগাজিন রাই আল-ইয়ুম আরব বিশ্বের একজন বিখ্যাত বিশ্লেষক "আবদুল বারী আতওয়ান" এর একটি বিশ্লেষণাত্মক নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে যেখানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনার আলোকে এই অঞ্চলে মার্কিন অভিযান এবং যে-কোনো সম্ভাব্য সামরিক অভিযান চূড়ান্তভাবে মোকাবেলা করতে ইরানের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান তার সমস্ত রেডলাইন সম্পর্কে অটল এবং অবিচল রয়েছে। আলোচনার সকল পর্যায়ে-ভিয়েনায় দেড় বছর ধরে চলমান পুরনো আলোচনা হোক বা মাস্কাটে নতুন আলোচনা-এই দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু নিয়ে আলোচনা না করার প্রকৃতির প্রতি তার জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রাণ বলে তার অবিচল থাকার ওপর জোর দিয়েছে।
মার্কিন সামরিক হুমকিতে ভয় না পাওয়া এবং বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধজাহাজ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় তার অভিযানের আলোকে ইরানের এই দৃঢ়তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সরকারকে বিভ্রান্ত ও বিস্মিত করেছে। সেইসাথে ইসরায়েলের জন্য এটি একটি দুঃস্বপ্ন তৈরি করেছে।
ইরানে শান্তি ও যুদ্ধের ব্যাপারে প্রথম এবং শেষ কথা যার, তিনি ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী। তিনি তার সাম্প্রতিক ভাষণে এমন একটি বাক্যাংশ ব্যবহার করেছেন যা সামরিক ও নৌ অভিধানে অত্যন্ত বিস্তৃতভাবে প্রবেশ করেছে এবং এর ব্যবহারিক অনুবাদ ভবিষ্যতের যেকোনো যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে। তিনি বলেছেন: একটি জাহাজ অবশ্যই একটি বিপজ্জনক যন্ত্র, তবে এর চেয়েও বিপজ্জনক হল এমন একটি অস্ত্র যা একটি যুদ্ধজাহাজকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠাতে পারে। ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা এই বাক্যাংশটি কেবল ভয় দেখানোর জন্য কিংবা অন্তর্নিহিত হুমকি দেওয়ার লক্ষ্যে উচ্চারণ করেন নি, যা ট্রাম্প আজকাল নিয়মিত করেন, বরং তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিবরণ সম্পর্কে তার নিজস্ব জ্ঞানের ভিত্তিতে এই বাক্যাংশটি উচ্চারণ করেছেন। এর মানে হলো ইরান আমেরিকার যে-কোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত। সম্ভবত গত বছরের জুনের যুদ্ধে, ১২ দিনের যুদ্ধে যা ঘটেছিল, তা এই বিবৃতিকে নিশ্চিত করে এবং পরবর্তী আসন্ন যুদ্ধে ইরানের আশ্চর্যজনক পদক্ষেপ আরও বেশি হবে।#
পার্সটুডে/এনএম/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।