ট্রাম্পের প্রশ্নে ইরানের সাফ জবাব: আত্মসমর্পন করব না কারণ আমরা ইরানি
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i157284-ট্রাম্পের_প্রশ্নে_ইরানের_সাফ_জবাব_আত্মসমর্পন_করব_না_কারণ_আমরা_ইরানি
পার্সটুডে- ইরান কেন আত্মসমর্পন করছে না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন প্রশ্নের জবাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আত্মসমর্পণ করব না কারণ আমরা ইরানি।
(last modified 2026-02-23T12:37:11+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ ১৭:২১ Asia/Dhaka
  • • ট্রাম্পকে আরাকচির জবাব
    • ট্রাম্পকে আরাকচির জবাব

পার্সটুডে- ইরান কেন আত্মসমর্পন করছে না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন প্রশ্নের জবাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আত্মসমর্পণ করব না কারণ আমরা ইরানি।

"ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট "ডোনাল্ড ট্রাম্প" এর ইরানের আত্মসমর্পন না করা সম্পর্কে কৌতূহলের জবাবে তার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন: আমরা কেন আত্মসমর্পণ করব না তা জানতে আগ্রহী? কারণ আমরা "ইরানি"।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশেষ প্রতিনিধি এবং দেশটির প্রধান আলোচক "স্টিভ উইটকফ", ফক্স নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন: ট্রাম্প আমাকে এই প্রশ্নটি করেছেন, এবং আমি "হতাশ" শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না। কারণ তিনি জানেন যে তার কাছে অনেক বিকল্প আছে, কিন্তু তিনি (ট্রাম্প) কৌতূহলী কেন তারা অর্থাৎ (ইরানিরা) আত্মসমর্পণ করেনি।

উইটকফ আরও বলেন: " ইরানিরা এত চাপের মুখে আমাদের কাছে কেন আসেনি এবং বলেনি যে আমরা স্বীকার করি যে আমরা আর কোনো অস্ত্র বানাতে চাই না? আমেরিকা "যা করতে প্রস্তুত" তার জন্যই এই অঞ্চলে সামরিক বাহিনী স্থানান্তর করছে, এবং অবশ্যই এই স্থানান্তর "কঠিন"।

"আমেরিকার প্রতি ইরানের অনমনিয় অবস্থানের কারণ তিনটি তাত্ত্বিক স্তরের (জাতীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক) উপর নির্ভর করে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এই কাঠামোতে, ইরানের কঠোর অবস্থানের পেছনে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, ভূ-রাজনৈতিক এবং মূল্যবোধের যুক্তি রয়েছে। ইরান এমন একটি দেশ যা ইতিহাস জুড়ে বহুবার বিদেশী শক্তি দ্বারা আক্রমণের শিকার হয়েছে, কিন্তু কখনও পরাজিত হয়নি। বহু প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাথে ইরানের যুদ্ধ থেকে শুরু করে নব্য-ঔপনিবেশিক যুগ এবং সমসাময়িক যুগ পর্যন্ত, ইরানের জাতীয় মানসিকতা "আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের" ধারণা দ্বারা গঠিত হয়েছে।

এই ইতিহাস "প্রতিরোধ" ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতির একটি অংশ করে তুলেছে। প্রতিরোধ হল জনগণের জন্য সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক ইরান। এই জাতীয় সংস্কৃতি এবং অভ্যন্তরীণ সংহতির কারণে, বহিরাগত চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করতে জানে না ইরানিরা।

এছাড়াও এটা লক্ষ করা উচিত যে পশ্চিম এশীয় অঞ্চলে, যেখানে দেশগুলির মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক প্রায়শই অস্থিতিশীল এবং জাতিগত, ধর্মীয় এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সেখানে, ইরান সবসময় নায়কের ভূমিকায় ছিল এবং এখনো আছে যাকে কখনো বৃহৎ শক্তির আনুগত্য করতে হয়নি।

ইরানের রাজনৈতিক ভূগোল, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর আধিপত্য থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়া এবং ককেশাসের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠতা পর্যন্ত, দেশটিকে শক্তি, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার কেন্দ্রে স্থান দিয়েছে।

পররাষ্ট্র নীতিতে ইরানের ঐক্যবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্বাধীন নীতির উপর জোর দেওয়া এবং বিদেশীদের উপস্থিতির বিরোধিতা প্রভৃতি অন্যান্য দেশের সাথে তেহরানের আঞ্চলিক সম্পর্কের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং এই প্রবণতা এই অঞ্চলের দেশগুলির স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বজায় রাখার জন্য একটি মডেল হিসাবে স্বীকৃত।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এই অঞ্চলের নিপীড়িত জাতিগুলিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিন, ইয়েমেন এবং লেবানন, এবং এই অঞ্চলে ইসরায়েল-মার্কিন বাড়াবাড়ি মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।

আন্তর্জাতিকভাবে, ইরানও নিজেকে এমন একটি দেশ বলে মনে করে যা অন্যায্যভাবে আরোপিত বিশ্বব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে, তেহরান তার পররাষ্ট্রনীতি "পূর্বও নয় পশ্চিমও নয়" নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে, যার অর্থ কোনও শক্তিরই ইরানি জাতির উপর তার ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার নেই। সাম্প্রতিক দশকগুলিতে, ইরান তার প্রতিরক্ষা, বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করে কার্যকর প্রতিরোধের একটি রূপরেখা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধ ড্রোন, পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং সাইবার সক্ষমতার উন্নয়ন এই সক্ষমতার সূচকগুলির মধ্যে একটি।

ইরানের অনমনিয় অবস্থান তার ঐতিহাসিক পরিচয়, সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার মতবাদের সংমিশ্রণের ফসল।

বিদেশী চাপ, এই ইচ্ছাশক্তিকে দুর্বল করার পরিবর্তে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটিকে শক্তিশালী করেছে। ইরান মনে করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত দাবি মেনে নেওয়ার অর্থ স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং কৌশলগত ভারসাম্য হারানো, যা তেহরানের কোনও সরকারই মানতে পারে না।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।