মানবাধিকার দাবিদাররাই ইরানি জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করছে: গারিবাবাদি
-
কাজেম গারিবাবাদি
পার্সটুডে: জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে ইরানের প্রতিনিধি জোর দিয়ে বলেছেন, মানবাধিকারের দাবিদার দেশগুলো নিষেধাজ্ঞা আরোপ, যুদ্ধকে সমর্থন এবং আগ্রাসন নিন্দা না করার মাধ্যমে নিজেরাই ইরানি জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করছেন।
বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সোমবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কিছু পশ্চিমা দেশের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে বলেন, যারা নিজেদের মানবাধিকারের পতাকাবাহী হিসেবে পরিচয় দেয়, তারাই মহান ইরানি জাতির অধিকারের প্রধান লঙ্ঘনকারী।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান মানবাধিকার বিষয়ে একটি দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র। তার ভাষায়, ইসলামী বিপ্লব ছিল স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি এবং জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।
ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত যুদ্ধে সাদ্দাম হোসেনকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে ৮ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ইরানি হতাহত হন। এদের মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার মানুষ রাসায়নিক অস্ত্রের শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে আশ্রয় নেওয়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হাতে ২৫ হাজারের বেশি ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে তিনি 'জীবনের অধিকারের বড় ধরনের লঙ্ঘন' এবং 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ' হিসেবে আখ্যা দেন।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এতে ১ হাজার ৬০ জনের বেশি শহীদ এবং প্রায় ৬ হাজার জন আহত হন। কিন্তু মানবাধিকার দাবিদাররা শুধু আগ্রাসন নিন্দাই করেননি, বরং আগ্রাসনকারীদের সমর্থন করেছেন।
তিনি গাজায় ইসরায়েলি শাসনের অপরাধের প্রসঙ্গে বলেন, সেখানে ২ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন, তবুও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাধা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
গারিবাবাদি মানবাধিকার প্রক্রিয়ার রাজনীতিকরণ নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, মানবাধিকার পরিষদ মিথ্যা দাবিদারদের হাতে একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
তিনি ইরানের প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্য এবং সাইরাসের মানবাধিকার সনদের কথা উল্লেখ করে বলেন, পশ্চিমা দাবিকৃত সভ্যতাগুলোর উদ্ভবের আগেই ইরানে মানবাধিকারের ঐতিহ্য বিদ্যমান ছিল।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, তেহরান যেকোনো সামরিক বা রাজনৈতিক হুমকির বিরুদ্ধে “দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে”। তিনি যোগ করেন, "আপনারা ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ পরীক্ষা করেছেন, ফল পাননি; এখন কূটনীতি ও পারস্পরিক সম্মানের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সময়।"
পার্সটুডে/এমএআর/২৪