ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানি কমান্ডার: ‘তোমাদের জন্যই জাহান্নামের দরজা খুলে যাবে’
-
মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি
ইরানের সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড ইউনিট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইলিকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কোনো অবকাঠামোতে আক্রমণ করলে আগ্রাসীদের জন্য 'জাহান্নামের দরজা' খুলে দেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির জবাবে গতকাল (শনিবার) এই মন্তব্য করেন ইরানের খাতামুল আম্বিয়া (আ.) সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি। এই সদর দপ্তর ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র মধ্যে অভিযান সমন্বয় করে।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তি না করলে ইরানকে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প এক পোস্টে লেখেন, “মনে আছে, আমি ইরানকে চুক্তি করা অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম? সময় শেষ হয়ে আসছে। তাদের ওপর ‘চরম বিপর্যয়’ নেমে আসার আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি।”
ট্রাম্পের এই আলটিমেটাম সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেন, “বারবার পরাজয়ের পর এক হতাশ ও অস্থির অবস্থায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আমাদের জাতীয় সম্পদ ও স্থাপনা ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন।“
আলী আবদুল্লাহি জানান, “২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি শাসনের সর্বশেষ বিনা উস্কানিতে আগ্রাসন শুরুর পর আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা পালন করেছি। আর এখন বার্তাটা পরিষ্কার—তোমাদের জন্য জাহান্নামের দরজা খুলে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো শত্রু আক্রমণ করলে ইরান ‘সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনী ও জায়নবাদী ইসরাইলের সব স্থাপনায়’ ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদি হামলা চালাবে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জাতির অধিকার ও সম্পদ রক্ষায় এক মুহূর্তও দ্বিধা করবে না।”
কমান্ডার ইরানের দৃঢ়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, "আমরা, সশস্ত্র বাহিনী, আমাদের জাতির অধিকার রক্ষা ও আমাদের জাতীয় সম্পদ রক্ষায় এক মুহূর্তও দ্বিধা করব না এবং প্রতিটি আগ্রাসীকে তার জায়গায় বসিয়ে দেব।"
আগ্রাসনের মুখে চলমান প্রতিশোধমূলক অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪-এর মধ্যেই এই মন্তব্য এলো। এই অভিযানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অঞ্চলের কৌশলগত ও সংবেদনশীল মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে শত শত ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। অপারেশনের অংশ হিসেবে তারা কমপক্ষে ৯৫টি পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যার কিছু লেবাননের হেজবোল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলন ও ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন