হরমুজ থেকে তেহরানের স্পষ্ট বার্তা; সবার জন্য নিরাপত্তা অথবা কারোর জন্যই নয়
-
হরমুজ থেকে তেহরানের স্পষ্ট বার্তা
পার্সটুডে- পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে "সবার জন্য নিরাপত্তা অথবা কারোর জন্যই নয়" -ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এমন নীতির উপর জোর দেওয়ায় ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধ এবং সামুদ্রিক যান চলাচলের উপর বিধিনিষেধের মতো শত্রুতামূলক নীতির অবলম্বন করেছে। অথচ ইরানের এই নীতি কারোর জন্যই কখনো হুমকি নয়, বরং সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষঅর একটি বৈধ প্রচেষ্টা।
পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরানের খাতমুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় ঘাঁটির বিবৃতিতে, আঞ্চলিক ও সীমান্তবর্তী জলসীমায় সার্বভৌম অধিকারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। স্বীকৃত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই অধিকার যেকোনো দেশকে তার গুরুত্বপূর্ণ জল পথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ কোনো ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নয়, বরং প্রতিটি সরকারের নিজ দেশের নিরাপত্তার প্রতি স্বাভাবিক দায়িত্বের অংশ।
এই নীতির উপর নির্ভর করে ইরান দেখিয়েছে যে, তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থের ব্যাপারে যেকোনো হুমকির মুখে নিষ্ক্রিয় থাকবে না।
তেহরান মনে করে, এই অঞ্চলে মার্কিন নীতি, বিশেষ করে সামুদ্রিক চলাচলের উপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রচেষ্টা, আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু নৌচলাচলের স্বাধীনতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং বিশ্ব বাণিজ্যের নিরাপত্তাকেও সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে।
"সবার জন্য নিরাপত্তা অথবা কারোর জন্যই নয়" ইরানের এই নীতিকে অবশ্যই স্বেচ্ছাচারিতা মোকাবেলার কাঠামোর মধ্যে বিশ্লেষণ করতে হবে। এই নীতি আঞ্চলিক ও আন্তঃআঞ্চলিক পক্ষগুলোকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়: নিরাপত্তা বেছে বেছে প্রদান করা যায় না।
এই ধারণাটি প্রস্তাব করার মাধ্যমে ইরান আসলে দাবি করছে যে, এই অঞ্চলের সকল দেশ যেন সমান নিরাপত্তা ভোগ করে এবং কোনো শক্তিই যেন চাপ প্রয়োগ করে অন্যের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে না পারে। #
পার্সটুডে/এমআরএইচ/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।