হজবাণী: আমেরিকার যুগ শেষ; নতুন ব্যবস্থা গড়তে বললেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i159690-হজবাণী_আমেরিকার_যুগ_শেষ_নতুন_ব্যবস্থা_গড়তে_বললেন_ইরানের_সর্বোচ্চ_নেতা
পার্সটুডে- ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সবোর্চ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আ রও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন এবং মার্কন আধিপত্যের বাইরে থেকে একটি নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।
(last modified 2026-06-16T05:39:17+00:00 )
মে ২৬, ২০২৬ ১৭:৪৪ Asia/Dhaka
  • আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী
    আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী

পার্সটুডে- ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সবোর্চ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়ী মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আ রও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন এবং মার্কন আধিপত্যের বাইরে থেকে একটি নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

পূর্ণাঙ্গ হজবাণী এখানে তুলে ধরা হচ্ছে-

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম 

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক।

হে আল্লাহ! আমি তোমার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি। তোমার কোনো শরিক নেই। সমস্ত প্রশংসা, সমস্ত নিয়ামত এবং সমস্ত কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা তোমার পক্ষ থেকেই এবং সবই তোমার।

এ বছরের হজ মৌসুম আবারও উপস্থিত হয়েছে এবং ইসলামী উম্মাহর হাজিরা ইবাদতের ইহরাম পরিধান করে তালবিয়া পাঠ করছেন— “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”— যাতে তারা বস্তুবাদী ও পার্থিব জীবন থেকে আল্লাহমুখী ও সৌভাগ্যময় জীবনের দিকে হিজরত করতে পারেন; এমন এক তাওহিদী জীবন, যা মহান ও সর্বোচ্চ আল্লাহর ইবাদতকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এবং আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা মিথ্যা উপাস্যদের প্রত্যাখ্যান, অস্বীকার ও বর্জনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

কিন্তু এই হিজরতের সুযোগ কেবল এ বছরের বাইতুল্লাহর জিয়ারতকারী ও হাজিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি ইরানসহ সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাই ও বোনকে অন্তর্ভুক্ত করে— যারা জীবনের অতীত সময়ে হজ পালন করেছেন এবং যারা এখনো হজের সৌভাগ্য অর্জনের সুযোগ পাননি, সকলকেই।

এই হিজরতের শর্ত হলো আল্লাহর স্মরণকে কেন্দ্র করে স্থায়ী ইহরাম ধারণ করা; সত্যের কেন্দ্রকে ঘিরে অবিরাম তাওয়াফ করা; মহান আল্লাহর দায়িত্বসমূহের গুরুত্বপূর্ণ শিখরগুলোর মাঝে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালানো; প্রতারক শয়তান, তার প্রলোভনসঙ্কুল প্রকাশ এবং তার সকল অনুসারীর বিরুদ্ধে অবিরাম আঘাত হানা; মনোযোগ ও বিনম্র প্রার্থনায় নিমগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা; অসহায় দরিদ্র ও পথিকদের আহার করানো; স্বার্থপর কামনা ও বিভ্রান্তিকর প্রবৃত্তিগুলোকে কোরবানি করা এবং অন্তরের অপবিত্রতাগুলো দূর করা; আর সর্বাবস্থায় সত্যের সেবায় প্রস্তুত থাকা ও সত্য রক্ষার পতাকা সমুন্নত রাখা।

আর এভাবেই ইসলামী বিপ্লবের মীকাতে ইরানি জাতি এই মহান হিজরতের পথে পদার্পণ করেছিল। তারা মহান খোমেনির ইবরাহিমী আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল, পরাধীনতার পোশাক খুলে ফেলেছিল, দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্যের ইহরাম পরিধান করেছিল এবং “লাব্বাইক” ধ্বনি উচ্চারণ করতে করতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিশুদ্ধ ইসলামী শিক্ষার কেন্দ্রকে ঘিরে তাওয়াফ করার চেষ্টা করেছিল; একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী ন্যায়বিচার ও সর্বোচ্চ ঐশী অভিভাবকত্বের আলোকোজ্জ্বল নূরের নিকটবর্তী হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল।

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। ওয়াল্লাহু আকবার। আল্লাহু আকবার। ওয়া লিল্লাহিল হামদ। আল্লাহু আকবার ‘আলা মা হাদানা। [আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তিনি আমাদের যে হিদায়াত দান করেছেন, সে জন্য আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।]

হ্যাঁ, আল্লাহু আকবার [আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ]।

আর এই [ঐশী] অস্ত্র— “আল্লাহু আকবার”— দিয়েই ৪৭ বছর আগে ইরানের মুসলিম জাতি জেগে উঠেছিল; তারা স্বৈরাচারী, একনায়কতান্ত্রিক ও পরনির্ভর পাহলভী শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করেছিল, লোভী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আমেরিকার আগ্রাসী হস্তক্ষেপ বন্ধ করেছিল এবং সম্পূর্ণভাবে জায়নবাদী প্রভাব নির্মূল করেছিল।

এই একই অস্ত্র— “আল্লাহু আকবার”— দিয়েই ইরানের আত্মত্যাগী মুজাহিদ ও নিঃস্বার্থ যুবকেরা আগ্রাসনের শিকার হওয়ার পর সাদ্দামের বাথ শাসনের বিরুদ্ধে আট বছরের পবিত্র প্রতিরোধের মহাকাব্য রচনা করেছিল এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সব বৈশ্বিক শক্তির সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ইরাকের তৎকালীন বাথ সরকারকে উচিত শিক্ষা দিয়েছিল।

তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে শত্রুদের অর্থনৈতিক অবরোধ, অভ্যুত্থান, অন্যায় নিষেধাজ্ঞা এবং অসংখ্য রাজনৈতিক, প্রচারমূলক ও অর্থনৈতিক হামলার মুখেও বহু বছর ধরে এই দৃঢ় প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছিল।

আল্লাহু আকবার।

এই “আল্লাহু আকবার”-এর অস্ত্রই মুসলিম উম্মাহ ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের তরুণ মুজাহিদদের পারস্পরিক বন্ধনকে শক্তিশালী করেছিল। এটা ঘটেছে ইরান থেকে লেবানন, ফিলিস্তিন, ইরাক ও সিরিয়া পর্যন্ত; আফ্রিকা ও ইয়েমেন থেকে আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বিশ্বের সকল স্বাধীন জাতির মধ্যে— যাতে এই দৃঢ় রজ্জু [হাবলুল মাতিন] মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব রক্ষায় দখলদার জায়নবাদী আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে, দায়েশ [আইএসআইএস]-এর ষড়যন্ত্র চূর্ণ করতে পারে, “আল-আকসা ফ্লাড” সৃষ্টি করতে পারে এবং টলোমলো জায়নবাদী শাসনব্যবস্থাকে তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের অবস্থায় পৌঁছে দিতে পারে।

আল্লাহু আকবার।হ্যাঁ, মহান ও পরম মর্যাদাবান আল্লাহ সকল বর্ণনা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে মহান। আর এই “আল্লাহু আকবার”-এর শক্তিই ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে সক্ষম করেছিল ফার্সি ১৪০৪ সালের খোরদাদ মাসে [জুন, ২০২৫] সংঘটিত দ্বিতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে জায়নবাদী ইসরায়েলকে  বিধ্বংসী আঘাতে নাস্তানাবুদ করে দিতে, আগ্রাসী আমেরিকাকে কঠোর চপেটাঘাত করতে এবং ইরানকে বশ্যতা স্বীকার করানোর শত্রুদের লক্ষ্য ব্যর্থ করে দিতে।

আর “আল্লাহু আকবার”-এর শক্তিই ইরানি জাতিকে এমন দৃঢ়তা ও সামর্থ্য দান করেছে যে, আজকের বিশ্বের সবচেয়ে অশুভ শক্তিগুলোর হাতে আমাদের মহান নেতা—পবিত্র নবী (সা.)-এর যথার্থ উত্তরসূরি, গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হোসেইনি খামেনেয়ী (আল্লাহ তাঁর মর্যাদা আরও সমুন্নত করুন)—এর হৃদয়বিদারক শাহাদাতের পরও, তারা (ইরানি জাতি) এক ঐশী ‘বিসআত’ তথা জাগরণ [নবুয়তসুলভ জাগরণ ও সক্রিয় আত্মপ্রকাশ]-এর অভিজ্ঞতা লাভ করতে পেরেছে। আর যেখানেই উপস্থিত থাকা প্রয়োজন ছিল, সেখানেই সর্বাত্মক উপস্থিতির মাধ্যমে তারা তাদের সম্মানজনক কীর্তির মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছে।

আল্লাহু আকবার।

নিশ্চয়ই মহান ও পরম মর্যাদাশালী আল্লাহ সকল বর্ণনা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। আর এই “আল্লাহু আকবার”-এর শক্তিই তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ইসলামী ইরানের বীর যোদ্ধা ও আত্মত্যাগী সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ অস্ত্রে সজ্জিত দুই সন্ত্রাসী আমেরিকা ও ইসরায়েলের বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় বিজয় এনে দিয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিরোধ ফ্রন্টের মুজাহিদদের—বিশেষকরে প্রিয় লেবাননের মুজাহিদদের—সঙ্গে নিয়ে লড়াই করেছে।

তারা আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে মহাশয়তান আমেরিকা ও তার প্রশিক্ষিত হিংস্র শক্তি জায়নবাদী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “রামি” [পাথর নিক্ষেপ] সম্পাদন করেছে। আর তারা নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছে আল্লাহর সেই সত্য প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। যেখানে বলা হয়েছে- যারা তাঁর পথে সংগ্রাম করে, বিজয় তাদেরই জন্য।

আরেকবার—আল্লাহু আকবার…

কোনো সন্দেহ নেই, মহান ও পরম মর্যাদাশালী আল্লাহ সকল বর্ণনার ঊর্ধ্বে মহান। তাঁর শক্তিই সব শক্তির ওপর বিজয়ী। আর এই একই “আল্লাহু আকবার”-এর শক্তির মাধ্যমেই ইরানি জাতি ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের ‘বিসআত’ [ঐশী জাগরণ ও সক্রিয় উত্থান]-এর ধারাবাহিকতায় সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ‘বিসআত’ গড়ে উঠবে।

মুশরিকদের প্রতি ঘৃণা ও সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা [বারাআত] হজের রামি আল-জামারাতের আনুষ্ঠানিকতা থেকে ছড়িয়ে পড়বে মুসলমানদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, বিশ্বের দূরতম প্রান্ত পর্যন্ত। 

মুসলিম উম্মাহ এবং এ অঞ্চলের জাতিগুলো বহু অভিন্ন সক্ষমতা ও যৌথ স্বার্থের অধিকারী, যা নতুন বিশ্বব্যবস্থা এবং এই অঞ্চলসহ গোটা বিশ্বের ভবিষ্যৎ কাঠামো গঠনে ভূমিকা রাখবে। আমি আন্তরিকতা ও বিশুদ্ধ নিয়ত নিয়ে সব মুসলিম দেশ ও সরকারের প্রতি কল্যাণ, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে আমরা সম্মিলিতভাবে মুসলিম উম্মাহর অগ্রগতি এবং মুসলিম বিশ্বের সমস্যাগুলো সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে পারি।এ বিষয়ে যা নিশ্চিত, তা হলো—সময়ের চাকা আর পেছনের দিকে ঘুরবে না এবং এ অঞ্চলের জাতি ও দেশগুলো আর মার্কিন ঘাঁটির ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। যুক্তরাষ্ট্র শুধু যে এ অঞ্চলে তার ষড়যন্ত্র ও সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য আর নিরাপদ আশ্রয় পাবে না তাই নয়, বরং দিন দিন তার আগের ভাবমূর্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে।একইভাবে কম্পমান জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা এবং ইসরায়েল নামক ক্যান্সারাক্রান্ত টিউমার তাদের দুর্দশাগ্রস্ত অস্তিত্বের শেষ পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মহান আল্লাহর কৃপায়—এবং দশ বছর আগে আমাদের মহান শহীদ নেতার সুদূরপ্রসারী ও দৃঢ় ঘোষণার আলোকে—ইনশাআল্লাহ, ওই সময়সীমা থেকে পরবর্তী পঁচিশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই এ শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটবে।

এই কারণে মুশরিকদের প্রতি ঘৃণা ও সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা [বারাআত]-এর বিষয়টি এ বছরের হজে আরও বেশি গুরুত্ব বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এর গভীরতা ও ব্যাপ্তি শুধু হজ মৌসুমের বারাআত ও মীকাতের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরান ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে—এবং এই বরকতময় দিনগুলোর পরও—“আমেরিকা ধ্বংস যাক” এবং “ইসরায়েল ধ্বংস হোক” স্লোগান মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের, বিশেষ করে যুবসমাজের, সাধারণ শ্লোগানে পরিণত হবে।ভবিষ্যৎ মুসলিম উম্মাহ এবং নতুন ইসলামী সভ্যতার। আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের দৃঢ়তা, সামর্থ্য ও দায়িত্ববোধ অনুযায়ী এর বাস্তবায়ন ও একে আরও নিকটবর্তী করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারি।এ বছরের হজে ইরানি হাজিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রয়েছে—তারা যেন মুসলিম ভাই-বোনদের কাছে তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধের বিজয়ের বর্ণনা তুলে ধরেন এবং তাদের মধ্যে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা জাগিয়ে তোলেন।আমি সকল প্রিয় হাজিদের অনুরোধ করছি, মানবজাতির ত্রাণকর্তার পুনরাগমন ত্বরান্বিত হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করুন—আল্লাহ যেন তাঁর আবির্ভাব ত্বরান্বিত করেন—এবং ইসলামী উম্মাহর ঐক্য, ফিলিস্তিন ও আল-আকসা মসজিদের মুক্তি, মুসলমানদের ওপর আপতিত কঠিন সংকটসমূহের অবসান এবং বিশ্ব ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য দোয়া করুন। একই সঙ্গে আপনাদের কল্যাণময় দোয়ায় আমাকেও রাখবেন, এই অনুরোধ জানাচ্ছি।

হে পরওয়ারদিগার! হজরত মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরদের প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণ করুন এবং হাজিদের ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আপনার রহমত ও করুণার জ্যোতিতে আবৃত করুন।তাদেরকে হজকে কবুল করে নিন, তাদের হৃদয়কে ঐশী জ্ঞান ও গভীর অন্তর্দৃষ্টির আলোয় আলোকিত করুন এবং উম্মাহর অবস্থার সংস্কার ও ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পথে এগিয়ে চলার জন্য তাদের সংকল্প ও ইচ্ছাশক্তিকে দৃঢ় করুন।হে প্রতিপালক! যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছেন—বিশেষ করে প্রতিরোধ ফ্রন্টের শহীদগণ এবং তাদের অগ্রভাগে থাকা আমাদের মহান শহীদ নেতা—তাদের পবিত্র আত্মার ওপর আপনার অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষণ করুন।উম্মাহর নেতার হেদায়েত ও নেতৃত্বে ধন্য হওয়া হাজিদের হজ, ইবাদতকারীদের ইবাদত এবং সংগ্রামীদের সংগ্রামের সওয়াব থেকে তাঁর আসমানী আত্মাকে প্রাচুর্যপূর্ণ প্রতিদান প্রদান করুন এবং ইরানি জাতি ও মুসলিম উম্মাহকে তাঁর পথ ও লক্ষ্য দৃঢ়তার সঙ্গে অনুসরণ করার তাওফিক দিন।

হে প্রতিপালক! আমাদের নেতা ও অভিভাবক প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী (আ.)-এর প্রতি (আল্লাহর শান্তি ও বরকত তাঁর এবং তাঁর পবিত্র পূর্বপুরুষদের ওপর বর্ষিত হোক) আপনার সর্বোত্তম দরূদ ও সালাম প্রেরণ করুন।তাঁর পবিত্র ও কবুলকৃত দোয়ার মাধ্যমে আমাদের সবাইকে এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আবৃত করুন। আপনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁর বরকতময় আবির্ভাবের মাধ্যমে পৃথিবীকে আলোকিত ও সুশোভিত করুন; কারণ আমাদের হৃদয় সেই অবশ্যম্ভাবী প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে পূর্ণ বিশ্বাসে পরিপূর্ণ।“আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দান করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের কর্তৃত্ব দান করেছিলেন। আর তিনি তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়কে অবশ্যই নিরাপত্তায় পরিবর্তন করে দেবেন।” (পবিত্র কুরআন ২৪:৫৫)

আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত আমাদের সকল মুসলিম ভাই-বোনের ওপর বর্ষিত হোক।

সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী

৫ খোরদাদ ১৪০৫৯ জিলহজ ১৪৪৭

[২৬ মে, ২০২৬]

পার্সটুডে/এসএ/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।