'তেহরানের হাতেই সব তুরুপের তাস, হরমুজ প্রণালি চিরকাল ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে'
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i159744-'তেহরানের_হাতেই_সব_তুরুপের_তাস_হরমুজ_প্রণালি_চিরকাল_ইরানের_নিয়ন্ত্রণেই_থাকবে'
পার্সটুডে: আন্তর্জাতিক সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট আই এক বিশ্লেষণে দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরান এখন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব তেহরানকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
(last modified 2026-05-28T09:31:35+00:00 )
মে ২৮, ২০২৬ ১৫:৩০ Asia/Dhaka
  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি
    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি

পার্সটুডে: আন্তর্জাতিক সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট আই এক বিশ্লেষণে দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরান এখন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব তেহরানকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরনার বরাতে পার্সটুডে'তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মিডল ইস্ট আই-এর পরিচালক ডেভিড হার্স্ট তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, "হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা এবং বাব আল-মান্দাবে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতাসহ যুদ্ধের সবকটি 'তুরুপের তাস' এখন ইরানের হাতে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে কোনো সুবিধাজনক কার্ড নেই।"

এই বিশ্লেষণে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, প্রাথমিক সমস্ত দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে গত ২৫ বছরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ষষ্ঠ যুদ্ধে হেরে গেছে আমেরিকা, আর ইরান এই যুদ্ধে বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

লেখকের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ, যেখানে ওয়াশিংটন তার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিবেদনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মোসাদ নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলা হয়, তারা ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোকে অতিমাত্রায় দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে ভুল মূল্যায়ন তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করা হয়েছে। বিশ্লেষণে এটিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় কৌশলগত ভুলগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

মিডল ইস্ট আই’র ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের সঙ্গে চীনের সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী ও লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থনও তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করেছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, ইরান এখন অনেক দেশের কাছে পশ্চিমা আধিপত্যবিরোধী প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আরব বিশ্বের উদ্দেশে তেহরানের বার্তা হচ্ছে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রভাবের মোকাবিলা করতে সক্ষম।

বিশ্লেষণে সতর্ক করে বলা হয়, ইরানে কৌশলগত ব্যর্থতা আড়াল করতে ইসরাইল লেবানন ও গাজায় সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এমন পদক্ষেপ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করতে পারে বলেও প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে মিডল ইস্ট আই দাবি করে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলভিত্তিক যে নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা কার্যকর হয়নি। বরং ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের আঞ্চলিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের প্রভাব ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২৮