৪৭ বছর আগে থেকেই আমরা ‘করতে হবে’ ধরনের ভাষাকে বিদায় জানিয়েছি: ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i159828-৪৭_বছর_আগে_থেকেই_আমরা_করতে_হবে’_ধরনের_ভাষাকে_বিদায়_জানিয়েছি_ইরান
পার্সটুডে-ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয় নি।
(last modified 2026-05-30T10:00:36+00:00 )
মে ৩০, ২০২৬ ১৫:৫৭ Asia/Dhaka
  • ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি
    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি

পার্সটুডে-ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয় নি।

ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে আরও জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের নিউজ নেটওয়ার্কের অনুষ্ঠানে টেলিফোনে অংশ নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসমাইল বাকায়ি বলেন, “আমরা ৪৭ বছর আগে থেকেই ‘করতে হবে, করা উচিত’ ধরনের ভাষাকে বিদায় জানিয়েছি। পশ্চিমা কোনো পক্ষ যখন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সম্পর্কে কথা বলে, তখন তারা ‘করতেই হবে’ ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে পারে না। আমরা ইরানি জাতির অধিকার ও স্বার্থের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।”

তিনি আরও বলেন, “আমেরিকানরা যাকে ‘নৌ অবরোধ’ বলে উল্লেখ করছে, তা শুরু থেকেই একটি অবৈধ পদক্ষেপ ছিল। এটি যেমন যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন, তেমনি আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতারও পরিপন্থী।”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা প্রসঙ্গে বাকায়ি বলেন, “বার্তা আদান-প্রদান অবশ্যই চলছে, কিন্তু এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয় নি।”

শত্রু জাহাজ ও সামরিক নৌযানের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “হরমুজ প্রণালির বিষয়ে শুরু থেকেই মার্কিন পক্ষ বাস্তবতাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর অবৈধ ও আগ্রাসী হামলার পর, হরমুজ প্রণালিতে ইরান বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”

তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালি শত্রু জাহাজ এবং সামরিক নৌযানের জন্য বন্ধ রয়েছে। তবে এই সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সমুদ্রপথ ব্যবহার করছে।”

তিনি আরও বলেন, “হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে, তা মূলত প্রণালির উপকূলবর্তী দুই দেশ-ইরান ও ওমান-এর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়।”

বাকায়ি উল্লেখ করেন, “হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। আমরা এমন এক বিশেষ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, যার অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। ফলে দায়িত্বশীল উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরান ও ওমানকে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে একদিকে তাদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকে এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিশ্চিত হতে পারে যে-এই পথ দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচল অব্যাহত থাকবে। এটি একটি স্বাভাবিক ও যৌক্তিক বিষয়।”

বর্তমান পর্যায়ে অগ্রাধিকার হলো যুদ্ধের অবসান

পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন: বর্তমান পর্যায়ে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো যুদ্ধের অবসান ঘটানো।#

পার্সটুডে/এনএম/৩০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।