ইসলামাবাদ সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের প্রতীক: বাকু সম্মেলনে ইরানের স্পিকার
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i160676-ইসলামাবাদ_সমঝোতা_যুক্তরাষ্ট্রের_পরাজয়ের_প্রতীক_বাকু_সম্মেলনে_ইরানের_স্পিকার
পার্সটুডে: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, "ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা কোনো চাপ বা জোরপূর্বক আরোপিত চুক্তি নয়; বরং এটি ইরানি জাতির প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার ফল। এই সমঝোতা প্রমাণ করেছে যে, সংলাপ কেবল তখনই ফলপ্রসূ হয় যখন অপর পক্ষ একটি সভ্য জাতির ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতা পরিহার করে এবং আমাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। আর এই কারণেই, 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' আমেরিকার পরাজয়ের ঘোষণাপত্রে পরিণত হয়েছে।"
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
জুন ২৪, ২০২৬ ১৫:৫৩ Asia/Dhaka
  • বাকুতে ওআইসি সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মোহাম্মদ বাকের কলিবফ
    বাকুতে ওআইসি সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মোহাম্মদ বাকের কলিবফ

পার্সটুডে: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, "ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা কোনো চাপ বা জোরপূর্বক আরোপিত চুক্তি নয়; বরং এটি ইরানি জাতির প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার ফল। এই সমঝোতা প্রমাণ করেছে যে, সংলাপ কেবল তখনই ফলপ্রসূ হয় যখন অপর পক্ষ একটি সভ্য জাতির ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতা পরিহার করে এবং আমাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। আর এই কারণেই, 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' আমেরিকার পরাজয়ের ঘোষণাপত্রে পরিণত হয়েছে।"

ইরনা'র বরাত দিয়ে পার্স টুডে জানিয়েছে, আজ (বুধবার) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাভুক্ত (ওআইসি) দেশগুলোর পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ২০তম সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

কলিবফ বলেন, সম্মেলনটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ইরান সম্প্রতি একটি কঠিন যুদ্ধপরিস্থিতি অতিক্রম করেছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ৪০ দিনের যুদ্ধ ছিল একটি আগ্রাসী ও অপরাধমূলক পদক্ষেপ। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং জনগণের প্রতিরোধের কারণে তাদের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ইরানি জনগণের ঐক্য ও প্রতিরোধ শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, আলোচনার টেবিলেও প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে প্রতিপক্ষকে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে এবং ইরানের অধিকার স্বীকার করতে বাধ্য হতে হয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কলিবফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এ অঞ্চলের দেশগুলোরই। কোনো দেশের নিরাপত্তা অন্য দেশের অনিরাপত্তার ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থাই স্থিতিশীলতার সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি।

ইরানের স্পিকার আরও বলেন, জ্বালানি সম্পদ, পরিবহন করিডর, মানবসম্পদ এবং বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার মতো ইসলামী বিশ্বের বিপুল সম্ভাবনাকে মুসলিম দেশগুলোর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কাজে লাগানো উচিত। এ লক্ষ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, বৈজ্ঞানিক ও নিরাপত্তা খাতে যৌথ উদ্যোগকে ইরান সমর্থন করে।

তিনি জানান, পারস্পরিক সম্মান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে ইরান সব মুসলিম দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।

কলিবফ বিদেশি সামরিক উপস্থিতিরও সমালোচনা করেন। তার মতে, পশ্চিম এশিয়ায় বহিরাগত শক্তিগুলোর সামরিক ঘাঁটি কখনোই স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি; বরং সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে অস্থিতিশীলতার কারণ হয়েছে। তাই অঞ্চল থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশিতা শুধু ভৌগোলিক অবস্থানের বিষয় নয়, এটি একটি যৌথ দায়িত্বও। একই অঞ্চলের দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। ফলে কোনো প্রতিবেশীকে দুর্বল বা অস্থিতিশীল করার নীতি শেষ পর্যন্ত কারও জন্যই সুফল বয়ে আনে না।

কলিবফ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বিশ্বাস করে যে, এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ কোনো ক্ষয়িষ্ণু প্রতিযোগিতার মধ্যে নয়, বরং কাঠামোগত সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সংযোগ, অবকাঠামোগত সংহতি এবং নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে গড়ে উঠবে। আর তাই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সমস্ত মুসলিম দেশের দিকে ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।" #

পার্সটুডে/এমএআর/২৪