ইরানের হামলায় উপসাগরজুড়ে মার্কিন রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘কালো রাত’
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i161536-ইরানের_হামলায়_উপসাগরজুড়ে_মার্কিন_রাডার_ও_প্রতিরক্ষা_ব্যবস্থার_কালো_রাত’
পার্সটুডে—ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘নাসর-২’ অভিযানের ২৪তম ধাপে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী বাহরাইনের আল-মুহাররাকতে অবস্থিত একটি মার্কিন রাডার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে সেটির কার্যক্রম অচল করে দিয়েছে। একই সঙ্গে বাহরাইনের আল-রিফা অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে।
(last modified 2026-07-21T10:21:50+00:00 )
জুলাই ২১, ২০২৬ ১৬:০৭ Asia/Dhaka
  • ইরানের হামলায় উপসাগরজুড়ে মার্কিন রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘কালো রাত’

পার্সটুডে—ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘নাসর-২’ অভিযানের ২৪তম ধাপে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী বাহরাইনের আল-মুহাররাকতে অবস্থিত একটি মার্কিন রাডার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে সেটির কার্যক্রম অচল করে দিয়েছে। একই সঙ্গে বাহরাইনের আল-রিফা অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে।

পার্সটুডের বরাত দিয়ে মেহর নিউজ এজেন্সি জানায়, মঙ্গলবার ভোরে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে ঘোষণা করে যে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলার জবাবে ‘শিশুহত্যাকারী মার্কিন সেনাবাহিনীকে শাস্তি দিতে’ ইসলামি যোদ্ধাদের বৃহৎ অভিযান শুরু হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নাসর-২’ অভিযানের ২৪তম ধাপে “ইয়া রুকাইয়া (সা.)” সংকেতের অধীনে ভবিষ্যতের বৃহত্তর অভিযানের পথ সুগম করতে এবং নির্ভুল হামলার পথে বাধা অপসারণের উদ্দেশ্যে বাহরাইনের আল-মুহাররাকে অবস্থিত একটি মার্কিন রাডার ও একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে। একই সময়ে আল-রিফায় অবস্থিত একটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ধ্বংস হয়েছে।

কুয়েতে মার্কিন আগাম সতর্কীকরণ রাডার ধ্বংস

আইআরজিসির আরেক বিবৃতিতে বলা হয়, হোসাইনি আনুষ্ঠানিকতায় জনগণের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ইরানি বাহিনী মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন আঘাত হেনেছে। এতে কুয়েতের আহমদ আল-জাবের ঘাঁটিতে অবস্থিত একটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার, একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, একটি FPS-117 রাডার, একটি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ‘রাডার অচল’ পর শত্রুপক্ষকে আরও কঠোর ও ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

এছাড়া কুয়েতের আলী আল-সালেম ঘাঁটিতে অবস্থিত MQ-9 ড্রোনের একটি হ্যাঙ্গারেও হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস অথবা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে: আইআরজিসি

আইআরজিসির আরেক বিবৃতিতে জানানো হয়, কিছুক্ষণ আগে দুটি তেলবাহী জাহাজ, যেগুলো মার্কিন সেনাবাহিনীর সহায়তায় হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণাঞ্চলের ‘বিপজ্জনক পথ’ অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল, বিস্ফোরণে আগুন ধরে থেমে যায়। উদ্ধারকারী দল জাহাজগুলোর নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।

বিবৃতিতে নৌপরিবহন কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়, তারা যেন নিজেদের নাবিক ও জাহাজের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেয় এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর তথ্যে আস্থা না রাখে।

আইআরজিসি আরও জানায়, “যতদিন এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে এবং এখান থেকে এক ফোঁটা তেল-গ্যাস বা এক প্যাকেট রাসায়নিক সারও রপ্তানি করা হবে না।”

কুয়েতে অবস্থিত আরিফজান ঘাঁটির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু

এদিকে, ইরানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ‘সায়েকা’ অভিযানের ১৮তম ধাপে দেশটির স্থলবাহিনী ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে কুয়েতের আরিফজান ঘাঁটিতে মোতায়েন মার্কিন HIMARS ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, HIMARS একটি দ্রুত স্থানান্তরযোগ্য মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করার ফলে শত্রুপক্ষের আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তাদের সামরিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।#

 

পার্স টুডে/এমবিএ/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।