'ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীর অবিলম্বে মুক্তি এবং এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধের দাবি'
জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার নিন্দা জানালেন ল্যাভরভ
-
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ
পার্সটুডে: রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে ইরানের শহীদ বিপ্লবী নেতা এবং অন্যান্য কর্মকর্তাকে হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন।
পার্সটুডের প্রতিবেদনে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার (আইআরআইবি) বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে ইসলামী বিপ্লবের নেতাকে হত্যা এবং ইরানের অন্যান্য ব্যক্তিত্ব ও প্রতিনিধিদের হত্যার নিন্দা জানান। তিনি এসব ঘটনাকে “স্বৈরাচার ও শক্তি প্রয়োগের অগ্রহণযোগ্য প্রদর্শন” বলে অভিহিত করেন।
ল্যাভরভ ইরানের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানারও নিন্দা জানান।
তিনি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর অপূরণীয় আঘাত হেনেছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর অব্যাহত উত্তেজনার কথা উল্লেখ করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতের বিষয়টির সমাধান করতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে বারবার সশস্ত্র সংঘাত অব্যাহত রয়েছে, যা নৌ চলাচল ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষতি করছে। এই সংকটের সমাধানের জন্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ও ইরানের মধ্যে আস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।
ল্যাভরভ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অপহরণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “আমরা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীর অবিলম্বে মুক্তি এবং এ ধরনের অপব্যবহারের পুনরাবৃত্তি রোধের দাবি জানাই।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে কিউবার ওপর আরোপিত অবরোধ ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে হবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এরপর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর অপরাধের প্রসঙ্গে বলেন, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে, কারণ ইসরায়েল তার বসতি স্থাপন কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।
ল্যাভরভ ইউক্রেন সংকটে ইউরোপের “ধ্বংসাত্মক ভূমিকা” উল্লেখ করে বলেন, ইউক্রেন নিয়ে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে ব্যাহত করার জন্য ইউরোপ সবকিছু করছে, যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এ ধরনের আলোচনায় আগ্রহী। #
পার্সটুডে/এমএএইচ /২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।