কাতারে আটক ইরানি পাইলটদের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়: বাকেরজাদেহ
-
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাকেরজাদেহ
পার্সটুডে-নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধান কমিটির কমান্ডার বলেছেন: আটক ইরানি পাইলটদেরকে পানির ওপর রাখা হয়েছে।
এমন স্থানের পরিবেশ তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাকেরজাদেহ। মার্চ মাসের হামলায় গুলি করে ভূপাতিত করা এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমানগুলোর তিন ইরানি পাইলটকে কাতারি বাহিনী জীবিত আটক করেছিল। কাতার সরকার যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে আটক ইরানি পাইলটদের স্থলভাগে এবং একটি সুসজ্জিত হাসপাতালে স্থানান্তর করে-এই আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান কমিটির কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরজাদেহ তার সর্বশেষ বক্তব্যে দাবি করেছেন, কাতারে আটক থাকা ইরানি পাইলটদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি তাদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর এবং দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাকেরজাদেহ কিছু ইরানি যুদ্ধবন্দির শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিকে (ICRC) কাতারে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর আহ্বান জানান। তার দাবি, আটক ইরানি পাইলটরা গুরুতর আহত ও অসুস্থ এবং তাদের যত দ্রুত সম্ভব ইরানে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
গত কয়েক দিনে ইরানি পাইলটদের আটক থাকার বিষয়টি তেহরান ও দোহার মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান কমিটির এই কমান্ডার আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের এমন একটি স্থানে রাখা হয়েছে, যা ‘পানির ওপর’ অবস্থিত এবং সেখানে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নেই। তিনি কাতার সরকারকে ইরানি বন্দিদের দ্রুত স্থলভাগে এবং এরপর একটি সুসজ্জিত হাসপাতালে স্থানান্তরের আহ্বান জানান।
ইরানি পাইলটদের ভাগ্য নিয়ে বাকেরজাদেহের আগের বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় এসব মন্তব্য এসেছে। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, কাতারে সু-২৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিন ইরানি পাইলটকে আটক করা হয়েছে। তাদের অবস্থান ও পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে তিনি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় কাতার দেশটির হাতে পাইলটদের আটক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে ভিন্ন একটি বিবরণ দেয়।
কাতারের অস্বীকৃতির পর বাকেরজাদেহ দেশটিকে বিষয়টি অস্বীকার করার পরিবর্তে ইরানি বিমানবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দলকে কাতারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান। এখন তার সর্বশেষ বক্তব্যে তিনি ‘ইরানের বিশেষজ্ঞ দলকে গ্রহণের জন্য কাতার সরকারের পদক্ষেপকে’ স্বাগত জানিয়েছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় ঘটনাটি মাঠপর্যায়ে তদন্তের একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
বাকেরজাদেহ তার বক্তব্যের অন্য অংশে কুয়েতে আটক চার ইরানির বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, ওই চারজনের সঙ্গে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাতের ব্যাপারে কুয়েত সরকারের প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গেছে। তিনি এই পদক্ষেপকে তাদের দ্রুত মুক্তির ক্ষেত্রে ‘আশার আলো’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি কুয়েত সরকারকে জেনেভা কনভেনশনের চারটি চুক্তির আওতায় যুদ্ধবন্দিদের অধিকার নিশ্চিত করার এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।
এভাবে, এই মামলার সর্বশেষ পর্যায়ে বাকেরজাদেহ একদিকে কাতারে আটক ইরানি পাইলটদের শারীরিক অবস্থার ওপর জোর দিয়ে তাদের দ্রুত স্থানান্তরের জন্য রেড ক্রসের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন; অন্যদিকে কাতার কর্তৃক ইরানের বিশেষজ্ঞ দলকে গ্রহণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে পাইলটদের আদৌ আটক করা হয়েছে কি না-এই মূল বিষয়টি নিয়ে তেহরান ও দোহার বক্তব্য এখনো পরস্পরবিরোধী।#
পার্সটুডে/এনএম/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন