বিশ্লেষণ | আমেরিকা কেন ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের আদলে ‘লুকাস’ তৈরি করল?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i163052-বিশ্লেষণ_আমেরিকা_কেন_ইরানের_শাহেদ_১৩৬_ড্রোনের_আদলে_লুকাস’_তৈরি_করল
পার্সটুডে- ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের অনুকরণে আমেরিকা ‘লুকাস’ নামে একটি ড্রোন তৈরি করেছে।
(last modified 2026-09-13T15:10:25+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৭:৪২ Asia/Dhaka
  • মার্কিন লুকাস ড্রোন
    মার্কিন লুকাস ড্রোন

পার্সটুডে- ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের অনুকরণে আমেরিকা ‘লুকাস’ নামে একটি ড্রোন তৈরি করেছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মজিদ মুসাভি বলেছেন, আমেরিকা বাধ্য হয়ে ইরানের শাহেদ-১৩৬-এর অনুরূপ একটি ড্রোন তৈরি করেছে এবং সেটিকে নিজেদের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তিনি বলেন, ইরানের শাহেদ শ্রেণির ড্রোনগুলো আমাদের তরুণদের চিন্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতার ফল।

‘লুকাস’ ড্রোন তৈরি আধুনিক যুদ্ধে কম খরচের ও ব্যাপকভাবে উৎপাদনযোগ্য অস্ত্রের গুরুত্ব বাড়ার একটি বড় ইঙ্গিত। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার শাহেদ-১৩৬ ব্যবহারের পর সস্তা একমুখী আক্রমণকারী ড্রোনের কার্যকারিতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এর অন্যতম বড় সুবিধা হলো, অর্থনৈতিক দিক। একটি তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ঠেকাতে প্রতিপক্ষকে অনেক বেশি ব্যয়বহুল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হতে পারে। ফলে কম খরচে ব্যাপক সংখ্যায় ড্রোন উৎপাদন করে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি লুকাস ড্রোনের ঘোষিত মূল্য প্রায় ৩৫ হাজার ডলার।

সব মিলিয়ে, লুকাসের আবির্ভাব শুধু একটি নতুন মার্কিন ড্রোন তৈরির ঘটনা নয়, বরং এটা থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট তা হলো- কম খরচে উৎপাদনযোগ্য ও ব্যাপকভাবে ব্যবহারযোগ্য ড্রোন এখন বড় সামরিক শক্তিগুলোর যুদ্ধকৌশল ও কৌশলগত হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরানের শাহেদ-১৩৬-এর সবচেয়ে বড় কৌশলগত সাফল্য এই নয় যে, আমেরিকা হুবহু একই ড্রোন তৈরি করেছে। বরং বড় সাফল্য হলো—একটি যুদ্ধকৌশল প্রথমে ইরানে বিকশিত হয়েছে, পরে যুদ্ধক্ষেত্রে তার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে এবং শেষ পর্যন্ত আমেরিকার মতো একটি সামরিক শক্তিকেও সেই বাস্তবতার মোকাবিলায় অনুরূপ একটি ব্যবস্থা তৈরি করে নিজেদের সামরিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়েছে।

এই পরিবর্তন থেকে এই বার্তাই স্পষ্ট হচ্ছে যে, ব্যয়বহুল যুদ্ধের যুগে কখনো কখনো তুলনামূলক সহজ, সস্তা, ব্যাপকভাবে উৎপাদনযোগ্য এবং বড় পরিসরে ব্যবহারযোগ্য একটি অস্ত্রও বিশ্বের বড় সামরিক শক্তিগুলোর কৌশলগত হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে।#

পার্সটুডে/এসএ/১৩