সৌদি আরবের গভীরে ইয়েমেনের পাল্টা আঘাত, পশ্চিম উপকূলে এগিয়ে চলেছে বাহিনী
https://parstoday.ir/bn/news/event-i163068-সৌদি_আরবের_গভীরে_ইয়েমেনের_পাল্টা_আঘাত_পশ্চিম_উপকূলে_এগিয়ে_চলেছে_বাহিনী
ইয়েমেনের ওপর চলমান বিমান হামলা ও দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের জবাবে সৌদি আগ্রাসী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নতুন করে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। এসব অভিযানে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে গভীরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
(last modified 2026-09-14T13:54:07+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১১:১২ Asia/Dhaka
  • সৌদি আরবের গভীরে ইয়েমেনের পাল্টা আঘাত, পশ্চিম উপকূলে এগিয়ে চলেছে বাহিনী

ইয়েমেনের ওপর চলমান বিমান হামলা ও দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের জবাবে সৌদি আগ্রাসী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নতুন করে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। এসব অভিযানে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে গভীরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ও ড্রোনের বড় ধরনের কয়েকটি সালভো সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, নাজরান, জিজান ও আবহা এলাকায় আঘাত হানে।

হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বিমানঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টারসহ বিভিন্ন সামরিক অবস্থান। পাশাপাশি সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর (Aramco) জ্বালানি অবকাঠামো এবং দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য তেল স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়। কয়েকটি স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু জ্বালানি অবকাঠামোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

সৌদি সূত্রগুলো দাবি করেছে, আগের দফার হামলায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছে। পরবর্তী অভিযানগুলোতে নাজরানের শারুরাহ এলাকার একটি সামরিক ঘাঁটি এবং সীমান্তবর্তী কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

ইয়েমেনের ভূখণ্ডে ধারাবাহিক সৌদি বিমান হামলার পরই এসব পাল্টা অভিযান চালানো হয়। আনসারুল্লাহ জানিয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় তাইজ, মারিব, হুদাইদাহ, আল-জাওফ, সাদা’সহ বিভিন্ন প্রদেশে ১২৯টি বিমান হামলা চালানোর কথা বলা হয়েছে।

ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী এর আগেই সতর্ক করে দিয়েছিল, আগ্রাসন ও অবরোধ অব্যাহত থাকলে হামলার উৎসগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এদিকে সৌদি-সমর্থিত ভাড়াটে বাহিনীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর দ্রুত অগ্রযাত্রার পর দেশটির পশ্চিম উপকূলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা মেডেসাঁ সাঁ ফ্রঁতিয়ের (MSF) সতর্ক করে বলেছে, জরুরি চিকিৎসাসেবা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে চালু থাকলেও হাসপাতাল ব্যবস্থায় এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়েমেনে MSF-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর লু কর্ম্যাক পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। তিনি জানান, সপ্তাহান্তে পশ্চিম উপকূলের সব হাসপাতাল খালি করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে কিছু সময়ের জন্য মোখা জেনারেল হাসপাতালে কেবল জরুরি কার্যক্রমই চালু ছিল।

কর্ম্যাক বলেন, কিছু হাসপাতাল আবার কার্যক্রম শুরু করতে পারছে। তবে পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে এবং হাসপাতালগুলো সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি সাধারণ ইয়েমেনিদের দুর্ভোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, পশ্চিম উপকূলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করে এবং অন্য যেকোনো জনগোষ্ঠীর মতো তাদেরও প্রতিদিনের চিকিৎসাসেবায় সহজ প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। মায়েরা সন্তান জন্ম দিচ্ছেন, শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে—জীবন স্বাভাবিকভাবেই চলতে থাকে। কিন্তু চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকলে মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যেতে পারে।#

 

পার্সটুডে/এমবিএ/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।