ইরানে নার্স দিবসে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার বার্তা:
নার্সদের মর্যাদা, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে: সর্বোচ্চ নেতা
-
সর্বোচ্চ নেতা হজরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা হজরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী হজরত জয়নাব (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী ও নার্স দিবস উপলক্ষে এক বার্তায় নার্স সমাজের উন্নয়ন, নার্সদের জ্ঞান, দক্ষতা, সক্ষমতা ও মর্যাদা সংরক্ষণ এবং বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি বলেছেন, ইসলামী আন্দোলন ও বিপ্লবের ইতিহাসের শুরু থেকেই ইরানের নারী ও তরুণীদের মধ্যে জয়নাবি আদর্শের প্রতিফলন দেখা গেছে। জাতির অভূতপূর্ব জাগরণের এই সময়ে, বিশেষ করে তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে, এই উপস্থিতি গুণগত ও সংখ্যাগত- উভয় দিক থেকেই বিস্ময়কর রূপ লাভ করেছে। বর্তমানে ইসলামী ইরানের জয়নাবি আদর্শে অনুপ্রাণিত নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে শহর ও গ্রামের বিভিন্ন ময়দানে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে কঠিন যুদ্ধের সম্মুখসারির পেছনে বাস্তব প্রতিরোধ ও সচেতনতা সৃষ্টির অগ্রদূত হয়ে উঠেছেন। ফলে সমকালীন স্বৈরাচারী শক্তিগুলো, যারা সব সময় এই জাতির ওপর দুর্ভোগ, যন্ত্রণা ও দমন-পীড়ন চাপিয়ে দিতে চায়, তারা এই বিশাল বাহিনীর মোকাবিলা করার সাহস নিজেদের মধ্যে খুঁজে পায় না।
হজরত জয়নাব কুবরা (সা.)-এর জন্মদিনকে পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি গভীর অনুরাগী এই ভূখণ্ডের মানুষ নার্সদের মর্যাদা উদ্যাপনের দিন হিসেবে যথার্থভাবেই নির্ধারণ করেছেন। কারণ, এর পেছনে রয়েছে তাঁর মমতা, বিপদগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে সহমর্মিতা এবং তাদের জন্য আত্মত্যাগের আদর্শ। এসব নৈতিক গুণ ও মানবিক মূল্যবোধ পরিশ্রমী ও সম্মানিত নার্স সমাজের মধ্যেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
তিনি বলেন, চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রশিক্ষক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও উদ্ধারকর্মীদের মতো নার্সদের ভূমিকাও জীবনদায়ী ও আশাব্যঞ্জক। এ কারণেই নার্সদের কখনো কখনো রহমতের ফেরেশতা হিসেবে দেখা হয়। অসুস্থ ও যন্ত্রণাকাতর মানুষের বিরক্তি, অস্থিরতা ও অধৈর্যের মুখেও তাঁরা যখন শান্তি, আশা, সুস্থতা ও চিকিৎসার পরিবেশ তৈরি করেন, তখন তা আল্লাহর রহমত লাভের পথ সুগম করে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরো বলেন, নার্সদের প্রতি যত্ন নেওয়া, নার্স সমাজকে শক্তিশালী করা এবং তাঁদের জ্ঞান, দক্ষতা, সক্ষমতা, কর্মোদ্দীপনা, প্রেরণা ও মর্যাদা সংরক্ষণ ও উন্নত করা- বিশেষ করে যেসব নার্স বেসরকারি নয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন- সমাজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে প্রত্যাশা, তাঁরা যেন নিজেদের দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেন।#
সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী
১৬ অক্টোবর ২০২৬
পার্সটুডে/এমআরএইচ/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।