নিষেধাজ্ঞা ও আগ্রাসনের পরিবেশগত ক্ষতিপূরণে আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা চান পেজেশকিয়ান
-
বক্তব্য রাখছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার দেশগুলোকে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির ব্যয় এককভাবে বহন করতে বাধ্য করা উচিত নয়।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, শুক্রবার আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে অনুষ্ঠিত জীববৈচিত্র্যবিষয়ক কনভেনশনের সদস্য দেশগুলোর ১৭তম সম্মেলনের শীর্ষপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন।
আগ্রাসী যুদ্ধের কারণে প্রকৃতির ওপর সৃষ্ট ধ্বংসাত্মক প্রভাবের নিন্দা জানিয়ে তিনি একে ‘ইকোসাইড’ বা 'পরিবেশগত গণহত্যা' হিসেবে অভিহিত করেন। যুদ্ধের সময় প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর, স্বচ্ছ এবং বাস্তবায়নযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধ শুধু মানুষের জীবন ও অবকাঠামোর জন্য হুমকি নয়; এটি প্রকৃতি ধ্বংসেরও প্রত্যক্ষ কারণ। যুদ্ধের ফলে বনভূমি পুড়ে যায়, জলাভূমি ধ্বংস হয়, মাটি ও পানি দূষিত হয় এবং বিভিন্ন প্রাণী তাদের আবাসস্থল থেকে বাস্তুচ্যুত হয়।
পরিবেশ সুরক্ষায় সহযোগিতাকে জাতিগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ‘শান্তির কূটনীতি’র একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এমন একটি অঞ্চলে, যেখানে বিভিন্ন শক্তির অবৈধ উপস্থিতি ও সম্প্রসারণবাদী কর্মকাণ্ড, জলবায়ু পরিবর্তন, পানির সংকট এবং বাস্তুতন্ত্রের অবক্ষয়ের কারণে নানা সংকট তৈরি হয়েছে, সেখানে পরিবেশগত সহযোগিতা দেশ ও জনগণের মধ্যে সম্পর্কের সেতুবন্ধ গড়ে তুলতে পারে।
পেজেশকিয়ানের মতে, এ ধরনের সহযোগিতা সবার জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, প্রকৃতির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথ সুগম করবে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৬