আরব লীগের বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে বিবৃতি: তেহরানের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i19783-আরব_লীগের_বৈঠকে_ইরানের_বিরুদ্ধে_বিবৃতি_তেহরানের_প্রতিক্রিয়া
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি সৌদি আরবের অগঠনমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন না দেয়ার জন্য আরব লীগের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। মিশরের রাজধানী কায়রোয় অনুষ্ঠিত আরব লীগের বিশেষ পরামর্শ সভা শেষে প্রকাশিত ইরান বিরোধী বিবৃতির জবাবে তিনি ওই আহ্বান জানান।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৬ ১৩:৫৬ Asia/Dhaka

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি সৌদি আরবের অগঠনমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন না দেয়ার জন্য আরব লীগের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। মিশরের রাজধানী কায়রোয় অনুষ্ঠিত আরব লীগের বিশেষ পরামর্শ সভা শেষে প্রকাশিত ইরান বিরোধী বিবৃতির জবাবে তিনি ওই আহ্বান জানান।

বাহরাম কাসেমি বলেছেন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও বাহরাইনে বেসামরিক জনগণের ওপর সৌদি আরবের হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করার জন্য রাজতান্ত্রিক শাসকগোষ্ঠীর প্রতি আরব লীগকে অবশ্যই আহ্বান জানাতে হবে। তিনি বলেছেন, “যদি এই জোট আন্তরিক হয় এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সৎ প্রতিবেশীসুলভ মনোভাব জোরদার করতে চায় তাহলে তাদের উচিত সৌদি আরবের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতি অন্যায় ও অগঠনমূলক সমর্থন বন্ধ করা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এবারের হজবাণীতে হজ পরিচালনায় অযোগ্যতা ও অব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরবের যে সমালোচনা করেছেন আরব লীগ গতকাল সভা শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে তার নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে তারা হজ পরিচালনায় সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আরব লীগ হজ পরিচালনায় সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিল। অথচ সৌদি শাসকদের অযোগ্যতার কারণে গত বছর হজ করতে এসে মিনায় ব্যাপক ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে ও প্রচণ্ড গরমে বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। যদিও সৌদি  কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মিনা বিপর্যয়ে তাদের কোনো হাত ছিলনা কিন্তু পরে তাদের আচরণ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডকে  তো কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না বরং অপরাধও বটে।

মিনায় যখন প্রচণ্ড ভিড় ও গরমে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছিল তখন ঘটনা জানার পরও সৌদি কর্মকর্তারা এগিয়ে আসেনি এবং তারা কেবল মৃত্যুর দৃশ্য চেয়ে চেয়ে দেখেছে। এমনকি মারাত্মক আহত যারা তখনও শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছিল তাদেরকে যদি পানি দেয়া হত তাহলেও তারা বেঁচে যেত। এরপর মৃত দেহগুলোকে অত্যন্ত অবমাননাকরভাবে স্তূপ আকারে ট্রাকে তোলা হয়। এই ছিল খাদেমুল হারামাইন শরীফের অবস্থা। পবিত্র মক্কা ও মিনায় যে ট্র্যাজেডি ঘটেছে তাতে আহত ব্যক্তিরা ও নিহতদের স্বজনেরা এ আশা করতেই পারেন যে, ওই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করা হবে। এর পাশাপাশি গত বছরের ঘটনা এবং অন্য বছরগুলোতে হজের সময় যেসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে তার আসল সত্য প্রকাশিত হবে।

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা গত একবছর ধরে মিনা বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তদন্ত তো দূরে থাক সৌদি কর্মকর্তারা এ ঘটনায় ক্ষমা পর্যন্ত চাননি। তারা হাজার হাজার মানুষ নিহতের ঘটনাকে আল্লাহর ইচ্ছে বলে চালিয়ে দিয়ে এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশও করেননি। অব্যবস্থাপনার কারণে এতো মানুষ নিহত হওয়ার পর সৌদি কর্মকর্তাদের উচিৎ ছিল বিশ্বের মুসলমানদের কাছে জবাবদিহিতা করা। কিন্তু তা না করে তারা এ ঘটনার জন্য উল্টো হাজিদেরকে দোষারোপ করার চেষ্টা চালিয়েছেন।

সৌদি কর্মকর্তাদের কাছে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য না থাকায় এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে সৌদিরা সন্ত্রাসী  ছড়িয়ে দেয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এবারের হজবাণীর বিশেষ গুরুত্ব ছিল এবং তা ছিল মুসলিম উম্মাহর মনের কথা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার হজবাণীতে হজ ব্যবস্থাপনা পরিচালনার দায়িত্ব মুসলিম উম্মাহ ও সব মুসলিম দেশের অধীনে ছেড়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এও বলেছেন, মুসলিম উম্মাহ যদি হজ পরিচালনার ব্যাপারে মৌলিক, কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে আগামীতে অনেক বড় বিপদ তাদের সামনে অপেক্ষা করছে।#   

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১০