সিরিয়ায় মার্কিন সেনার প্রয়োজন নেই: ইরান
-
সিএনএনকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন জারিফ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ আমেরিকাকে সিরিয়ায় সেনা না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সিরিয়ায় মার্কিন পদাতিক সেনা পা রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে উগ্রবাদের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে যা গোটা বিশ্বের নিরাপত্তাকে হুমকিগ্রস্ত করে তুলবে।
শুক্রবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের অবকাশে মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএনকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ আহ্বান জানান জারিফ। তিনি বলেন, “এমন কোনো সমাধানের চেষ্টা করা উচিত নয় যা নিজেই সমস্যা তৈরি করে। সিরিয়ায় মার্কিন সেনা পা রাখা মাত্র সারাবিশ্ব থেকে হতাশাগ্রস্ত যুবকদের নিজেদের দলে ভেড়ানোর মোক্ষম অজুহাত পেয়ে যাবে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো।”
সম্প্রতি একজন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা বলেছিলেন, হোয়াইট হাউজ অচিরেই সিরিয়ায় সেনা পাঠানোর নির্দেশ জারি করতে পারে। বৃহস্পিতিবার রাতে ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছিল, কিছুদিনের জন্য সিরিয়ায় সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে হোয়াইট হাউজ।
নির্বাচনি প্রচারাভিযানের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ায় বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বর্তমানে কথিত আন্তর্জাতিক জোট গঠন করে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালালেও দেশটিতে আমেরিকার কোনো স্থলসেনা নেই।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিএনএনকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, সিরিয়ায় বর্তমানে ব্যাপকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। ২০১১ সালে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এত দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশটিতে আর কখনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল না। কাজেই এ অবস্থায় সিরিয়া সেনা পাঠানোর কোনো প্রয়োজন নেই। ইরাকে মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের ফলেই যে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের উৎপত্তি হয়েছে সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন জারিফ।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৮