মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কারণেই ইরান আজ এতো জনপ্রিয়
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i39798-মুসলিম_উম্মাহর_শত্রুদের_বিরুদ্ধে_রুখে_দাঁড়ানোর_কারণেই_ইরান_আজ_এতো_জনপ্রিয়
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, তেহরানে সন্ত্রাসী হামলা থেকে ইরানের জনগণ, বিপ্লব ও ইসলামী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো ও তাদের অনুচরদের শত্রুতা ও বিদ্বেষী চেহারা ফুটে উঠেছে। বর্বরোচিত ওই সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের এক শোকানুষ্ঠানে পাঠানো শোকবাণীতে তিনি এ কথা বলেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার বাণীতে আরো বলেছেন, এ ধরণের নৃশংস কর্মকাণ্ডের ফলে কেবল মার্কিন সরকার ও সৌদি আরবের মতো পদলেহী শাসকদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ ও ঘৃণা আরো বাড়বে।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
জুন ০৯, ২০১৭ ১৪:০৬ Asia/Dhaka

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, তেহরানে সন্ত্রাসী হামলা থেকে ইরানের জনগণ, বিপ্লব ও ইসলামী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো ও তাদের অনুচরদের শত্রুতা ও বিদ্বেষী চেহারা ফুটে উঠেছে। বর্বরোচিত ওই সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের এক শোকানুষ্ঠানে পাঠানো শোকবাণীতে তিনি এ কথা বলেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার বাণীতে আরো বলেছেন, এ ধরণের নৃশংস কর্মকাণ্ডের ফলে কেবল মার্কিন সরকার ও সৌদি আরবের মতো পদলেহী শাসকদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ ও ঘৃণা আরো বাড়বে।

গত বুধবার শত্রুদের অনুচর সন্ত্রাসীরা তেহরানে যে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে পূর্বেও ইরানের ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে এ ধরণের বহু ঘটনা ঘটেছে। ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে এ পর্যন্ত গত প্রায় ৪০ বছরে শত্রুরা ইরানে বহু হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসাত্মক তৎপরতা চালিয়েছে। ইমাম খোমেনী(র.) এর নেতৃত্বে ইরানের জনগণ এমন এক ইসলামী বিপ্লবের ভিত্তি রচনা করেছে যা সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং বাইরের কোনো শক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।

ইরানের ইসলামী শাসন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ জনগণের ওপর নির্ভরশীল এমন এক ব্যবস্থা যা কিনা আর্থ-রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে স্বনির্ভর। ইরান সত্যিকারের স্বাধীন দেশ বলেই মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীতে ইতিবাচক ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়েছে এবং এ কারণে ইরান এ অঞ্চলের জনগণের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছে। মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কারণেই ইরানে ইসলামী বিপ্লবের প্রতি মানুষের আকর্ষণ ও সমর্থন বেড়েছে। ইরানের জনগণ তাদের লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাচ্ছে এবং গত প্রায় ৪০ বছর ধরে শত্রুরা ষড়যন্ত্র করেও ইরানের জনগণের দৃঢ় ইচ্ছায় ফাটল ধরাতে পারেনি।

বিপ্লবের শুরু থেকেই শত্রুরা নানাভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং এখনো তারা ইরানের ইসলামী সরকার ও জনগণের বিরুদ্ধে শত্রুতায় লিপ্ত। মার্কিন নেতৃত্বে শত্রুদের ষড়যন্ত্র যেন শেষ হবার নয়। ইরানের ওপর ইরাকের আট বছরের যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে মার্কিন অনুচরদের মাধ্যমে গুপ্তহত্যা, ইসলামী সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা, কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এসবই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ষড়যন্ত্রের কিছু নমুনা। গত বুধবার তেহরানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ছিল শত্রুদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের জনগণের ঐক্য ও দৃঢ় মনোবল এবং ইসলামী বিপ্লবী সরকারের প্রতি তাদের জোরালো সমর্থনের কারণে শত্রুদের সব ষড়যন্ত্র কার্যত ভেস্তে গেছে এবং ইরানের জনগণের ঐক্য ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। তেহরানে সন্ত্রাসী হামলায় শহীদদের জানাযা অনুষ্ঠানে আজ প্রেসিডেন্ট, সংসদ স্পিকার ও বিচারবিভাগের প্রধান এবং সর্বস্তরের  জনগণের উপস্থিতি থেকে ইরানি সমাজের ঐক্য ও সংহতি আবারো সারা বিশ্বের মানুষ প্রত্যক্ষ করল।

ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া আট বছরের যুদ্ধের সময় আমেরিকা ও সৌদি আরব ইরাকের সাদ্দামকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, সৌদি আরব সে সময় সাত হাজার কোটি ডলার সাদ্দামকে দিয়েছিল। এখনো সৌদি সরকার সন্ত্রাসীদের সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি আমেরিকার ইরান বিরোধী ষড়যন্ত্রে শামিল হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন, শত্রুরা যতই ষড়যন্ত্র ও নৃশংস হামলা চালাক না কেন এতে করে সৌদি আরব ও আমেরিকার প্রতি ইরানের জনগণের ঘৃণা আরো বাড়বে।#                    

 পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/৯