শহীদ খামেনেয়ীর শেষ বিদায়: কোন কোন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন?
-
ইরানের শহীদ নেতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের কফিনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন বিদেশি অতিথিরা
ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ইরানে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমাবেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। তেহরানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন।
রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্ট স্পিকার, মন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ঘটনার রূপ দেয়।
এশিয়ার দেশগুলোর ব্যাপক উপস্থিতি
অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব ছিল সবচেয়ে বেশি। ইরাক সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি দলগুলোর একটি পাঠায়। এতে কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি, ইরাকি পার্লামেন্টের স্পিকার মাহমুদ আল-মাশহাদানি, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এবং পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খুরাইজি। ওমান থেকে দেশটির রাষ্ট্রীয় পরিষদের চেয়ারম্যান এবং কাতার থেকে পার্লামেন্ট স্পিকার হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-গানিম অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বাহরাইন ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশের শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
লেবাননের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিশেল মেনাসার পাশাপাশি হিজবুল্লাহ ও আমাল আন্দোলনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। ইয়েমেন থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আল-জুনাইদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল এবং আনসারুল্লাহ আন্দোলনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
ফিলিস্তিনের বিভিন্ন প্রতিরোধ সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাদের মধ্যে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতারা এবং ইসলামিক জিহাদের মহাসচিব জিয়াদ আল-নাখালাহ ছিলেন।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠায়। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে সিনেট চেয়ারম্যান, সরকারি কর্মকর্তা এবং ধর্মীয় নেতারাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
আফগানিস্তান থেকে তালেবান প্রশাসন এবং আফগান প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতিনিধিরা অংশ নেয়। ভারত সরকার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একজন বিশেষ দূত পাঠায়।
চীনের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই।
তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলিও উপস্থিত ছিলেন।
তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। তুর্কমেনিস্তানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পিপলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও জাতীয় নেতা গুরবানগুলি বেরদিমুহামেদভ।
এ ছাড়া আজারবাইজানের পার্লামেন্ট স্পিকার, কাজাখস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলাদেশ, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট স্পিকার, থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার কৃষিমন্ত্রী, মিয়ানমারের বিশেষ দূত এবং উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আফ্রিকার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশও অনুষ্ঠানটিতে প্রতিনিধি পাঠায়। মিশরের সিনেট স্পিকার অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা, বুরকিনা ফাসো, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, নামিবিয়া, তানজানিয়া ও তিউনিসিয়া সরকারি প্রতিনিধি পাঠায়। নাইজেরিয়া ও সেনেগালও শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রতিনিধি দল প্রেরণ করে।
ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার উপস্থিতি
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে রুশ নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বেলারুশের পার্লামেন্ট স্পিকার, সার্বিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী এবং বুলগেরিয়ার সংসদীয় ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। জার্মানির শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
লাতিন আমেরিকা থেকে কিউবার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন। নিকারাগুয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভালদ্রাক ইয়েনচকে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্ব
শুধু রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরাই নয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) মহাসচিব নুরলান ইয়েরমেকবায়েভ, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) উপ-মহাসচিব তারিক আলী বাখিত, ডি-৮ অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব এবং ইকোনমিক কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (ইসিও) মহাসচিব অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিভিন্ন মহাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং রাজনৈতিক-ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ব্যাপক উপস্থিতি আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আগ্রহ ও গুরুত্বের একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হবে।#
পার্সটুডে/এমএআর/৪